বহির্নোঙরে, ঘাটে ঘাটে আটকা পড়েছে ২১ লাখ টন পণ্য

ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

0
103
বিশেষ প্রতিনিধি
নৌ যান শ্রমিকদের ধর্মঘট তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর বা লাইটারিং পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইসাথে বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নৌ পথে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সাগরে এবং ঘাটে ঘাটে পণ্যভর্তি জাহাজ আটকা পড়েছে। ধর্মঘট শুরুর পর বৈঠকের কোন পদক্ষেপ না আসায় ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এই উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যােগে জাহাজ মালিক, ধর্মঘট পালনকারী শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, পরিবহন ব্যবসায়ী, চেম্বারসহ সব ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বন্দর ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে ৫৪টি বিদেশি জাহাজে ১০ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে। এর বাইরে সাগর ও নদীপথে গন্তব্যে রওনা দেয়ার পর মাঝপথে  বিভিন্ন ঘাটে আটকা পড়েছে ১১ লাখ ৯০ হাজার টন। সবমিলিয়ে ২১ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে।
এসব জাহাজে গম, ভুট্টা ও ছোলা আছে সাড়ে ৪ লাখ টন; পশুখাদ্য আছে দেড় লাখ টন এবং বাকিটা পাথর, কয়লা এবং সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল রয়েছে। জাহাজ থেকে নামিয়ে এসব পণ্য বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাট এবং বহির্নোঙর থেকে ছোট জাহাজে সরাসরি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত সরবরাহ নেয়ার কথা ছিল। সোমবার রাত ১২টা থেকে ধর্মঘটের কারণে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটারিং) পণ্য স্থানান্তর কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বহির্নোঙরে অচলাবস্থা চলছে।
জানতে চাইলে শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বশর চৌধুরী শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, ধর্মঘটের ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরী হবে একইসাথে শিল্প কারখানায় যথাসময়ে কাঁচামাল পৌঁছানো বিলম্বিত হবে। আমদানি পণ্য সরবরাহ হয়ে উৎপাদন এবং বাজারে সরবরাহ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এর কোন এক স্থানে ব্যাঘাত ঘটলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাড়তি বসে থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতির বোঝা আরও বাড়বে। অনেক হয়েছে আর নয়; অতিদ্রুত এর সমাধান করা হোক।

এদিকে বুধবার পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকার পরও চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের জাহাজ আসা-যাওয়ার কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। জেটিতে পণ্য উঠানামা স্বাভাবিক ছিল এবং বন্দর থেকে সড়ক-রেলপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল। তবে ধর্মঘট বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে খোলা জাহাজ জেটিতে ভিড়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বিদেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বড় আকারের খোলা জাহাজ পৌঁছে বহির্নোঙরে কিন্তু সেই পণ্য নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না। বহির্নোঙরে কিছু পণ্য নামিয়ে ওজন হাল্কা করে জাহাজটিকে জেটিতে ভিড়তে হয়। ধর্মঘটের কারণে সেই পণ্য স্থানান্তর কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়বে বন্দরে।
ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আবারও আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি নিয়ে সব শিল্প উদ্যোক্তা-শ্রমিক-কর্মচারী যখন বাড়তি শ্রম দিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টায় নিয়োজিত তখন এমন ধর্মঘট সত্যিই আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এটা মেনে নেয়া যায় না।
তিনি বলছেন, বাড়তি জাহাজ ভাড়া বাবদ দিনে প্রতি জাহাজে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বোঝা তো পণ্যের দামের সাথে যোগ হয়ে দাম বাড়বে।
এদিকে ধর্মঘট পালনে গতকালও ছোট ছোট মিছিল নিয়ে চট্ট্রগামের বিভিন্ন ঘাটে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। ধর্মঘট পালনকারী নৌ যান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ধর্মঘট শুরুর পর আমরা এখন পর্যন্ত সরকারী-বেসরকারী ভাবে বৈঠকের কোন উদ্যোগ দেখছি না। শুধু শুনেছি বড়কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজেদের জাহাজের শ্রমিকদের খোরাকি ভাতা দিচ্ছে কিন্তু বাকি জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে আশ্বাস বানী দুরে থাক ।
ধর্মঘটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জাহাজ মালিকরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে জাহাজ মালিকদের কাছে পরিস্থিতি উত্তরণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব তৈরী নিয়ে বৈঠকে বসলেও মালিকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জাহাজ মালিকদের দুটি পক্ষ পৃথকভাবে প্রস্তাব তৈরী করছেন; সেই প্রস্তাব পেলে মন্ত্রী তাদের ডাকবেন বিষয়টি সমাধানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here