বন্দরে ফেলে রাখা পণ্য নিলামে বড় অগগ্রতি একমাসেই তিনটি নিলাম রেকর্ড করলো চট্টগ্রাম কাস্টমস

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর বছরের পর বছর ফেলে রাখা পণ্যের নিলাম কাজে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।আগে প্রতিমাসে একটি নিলাম আয়োজনের নিয়ম ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমসের কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কখনো সেই নিয়ম মানেনি। প্রতিমাসে দুরে থাক দুই-তিনমাসে একটি নিলাম আয়ােজন না থাকার অসংখ্য নজিরও রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম সেই নজির ভেঙ্গেছেন। গত একমাসে তিনটি নিলাম আয়োজন করে চমক দেখিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ; যা চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে রেকর্ড।
নিয়মিত নিলাম আয়োজনের ফলে চট্টগাম বন্দরের ইয়ার্ডে স্থান বেড়েছে; এতে পণ্য পরিচালন ব্যবস্থায় বাড়তি সুযোগ পেয়েছে বন্দর। কারণ এসব কন্টেইনার বন্দর ইয়ার্ড দখল করে বছরের পর বছর রাখায় বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান কমে গিয়েছিল। কাস্টমসের এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা চান।
‘নিয়মিত নিলাম আয়োজনের বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছি’ উল্লেখ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘আগে কোনো মাসে একবারও নিলাম হয়নি। গত মাসে আমি তিনটি নিলাম আয়োজন করেছি। এখন সেই ধারাবাহিকতা থাকবে।এখন পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দর ইয়ার্ডে ফেলে রাখতে কিছুটা হলেও নিলাম ভয় কাজ করছে আমদানিকারকদের মধ্যে।’
জানা গেছে, জাহাজ থেকে নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর ইয়ার্ডে পণ্য ফেলে রাখাই ছিল কিছু ব্যবসায়ীদের নিয়ম। বাজারের অবস্থা দেখে সুযোগ বুঝে আমদানিকারকরা পণ্য বন্দর থেকে ছাড় নিতেন। এরফলে বছরের পর বছর পণ্য ইয়ার্ডে পড়ে থাকতো। ৩০দিনের বেশি পণ্য পড়ে থাকলে নিলামে তোলার নিয়ম চালু করতে পারেনি কাস্টমস ও বন্দর। এতে পণ্যের জট লেগেই থাকতো চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার আরো বলেন, ‘জাহাজ থেকে পণ্য নামার ৩০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ছাড় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে পণ্য নামার ২১ দিনের মধ্যে ছাড়ের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। সেটি কার্যকর না হলে আমরা নিয়মিতই পণ্য নিলামে তুলব। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’
ফখরুল আলম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে অনেক উদ্যোগ, চেষ্টার পরও মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংস করা যায়নি। বিভিন্নমুখী জটিলতায় উদ্যোগ সফল হয়নি। এবারই প্রথম আমরা কভিড মহামারির লকডাউনের মধ্যেই পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম শুরু করি। মাঝখানে চট্টগ্রামে কভিডের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ রেখেছিলাম। এখন আবার শুরু করেছি। আশা করছি ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।’
জানা যায়, গত এক বছরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২৬৮ কনটেইনার পচা বা নষ্ট হওয়া পণ্য ধ্বংস করেছে; যার পরিমাণ হবে ছয় হাজার টনের মতো। এর বাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিপজ্জনক ৫৫ টন রাসায়নিক পদার্থও পরিবেশ সম্মতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর বিপজ্জনক পণ্য রাখার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে; আর বন্দরের ভেতর পণ্য পরিচালন ব্যবস্থায় গতি এসেছে। মূলত লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রাম বন্দরের টনক নড়ে।
সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘পণ্যভর্তি কনটেইনার ইয়ার্ডে ফেলে রাখলে শিপিং লাইনের আর্থিক ক্ষতি, বন্দরের পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি, কাস্টমসও বঞ্চিত হয় নির্ধারিত রাজস্ব থেকে। এর পরও অনিয়ম বন্ধ করা যায়নি। আশা করছি এবার তারা চাপে পড়বে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *