বন্দরে পড়ে থাকা আরো ২৫ টন রাসায়নিক ধ্বংস হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরেরর ইয়ার্ডে পড়ে থাকা আরো প্রায় ২৫ টন বিপদজনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পরিবেশসম্মতভাবে চট্টগ্রামের কোথাও এই পণ্য ধ্বংসের সুযোগ না থাকায়  সুনামগঞ্জে অবস্থিত লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় এসব রাসায়নিক ধ্বংস করা হবে। এর আগে প্রথমদফায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ৪৯ টন বিপদজনক রাসায়নিক ধ্বংস করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস। দ্বিতীয় দফায় ফেব্রুয়ারিতে ১০ টন রাসায়নিক ধ্বংস করা হয়েছিল।
বন্দরের পি শেডে ২০ বছরের পুরোনো রাসায়নিক পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং বিপদজনক হয়ে উঠলে সেগুলো ধ্বংসের কোন উদ্যোগ ছিল না চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা কাস্টমসের। কিন্তু ২০২০ সালের আগস্টে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরের ভিতর ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরনের পরই মুলত টনক নড়ে বন্দর-কাস্টমসের। এর মধ্যে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই বন্দরের পি শেডে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। এরপর তড়িঘড়ি করে তালিকা করে এসব পণ্যের ৪৯ টন ৬ ডিসেম্বর ২০২০ সালে সুনামগঞ্জে নিয়ে ধ্বংস করা হয়। এরইমধ্যে আইনী জটিলতায় আরো কিছু পণ্য ইয়ার্ডে পড়েছিল। ইতোমধ্যে নতুন কিছু পণ্যও এই তালিকায় যুক্ত হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার (নিলাম) মো. আল আমিন বলেন, বন্দরের পি শেডে থাকা অতি দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য তিনবার নিলামে তোলা হয়েছে। কিন্তু কিছু পণ্যের কোনো দরদাতা পাওয়া যায়নি। বাকি কিছু পণ্য নিয়ম অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুনামগঞ্জে অবস্থিত লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানার জিও সাইকেল প্রকল্পে পাঠিয়ে দেব।
এবার ধ্বংস তালিকায় পণ্যের মধ্যে লেবানন থেকে ফেরত আসা ত্রুটিযুক্ত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কেজি প্যারাসিটামল সিরাপও আছে। স্কেপ ফার্মাসিউটিক্যালস এই সিরাপ লেবাননে রপ্তানি করেছিল। কিন্তু ত্রুটি থাকায় তা ফেরত পাঠায় আমদানিকারক। পরে এই সিরাপ স্কেপ ফার্মাসিউটিক্যালস আর ফেরত নেয়নি। এর বাইরে বাকি ৮ হাজার কেজি সোডিয়াম ক্লোরাইড, সালফেট, কস্টিক সোডা, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, ব্যাটারি তৈরির উপকরণ, ওষুধ তৈরির নানা রাসায়নিক, যা অতি দাহ্য পদার্থ।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, রাসায়নিক পণ্য দ্রুত ছাড় নিতে আমরা এর আগে একাধিকবার তাগাদা দিয়েছিলাম। বাড়িত মাশুল আরোপের হুমকির পরও সেগুলো ছাড় নেয়নি আমদানিকারক।  এসব রাসায়নিকসহ বন্দরে নিলামযোগ্য প্রায় ৭ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার পণ্য পড়ে আছে। এসব পণ্য নিলাম বা ধ্বংসের দায়িত্ব কাস্টমসের। এসব পণ্য যত দ্রুত নিলাম বা ধ্বংস হবে, বন্দরের সক্ষমতা ততই বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *