প্রথমবার ৭৫৫ একক কন্টেইনার নিয়ে কলম্বো ভিড়লো বাংলাদেশি জাহাজ ‘এইচআর হেরা’

0
630

বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৫৫ একক রপ্তানি পণ্য নিয়ে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এইচআর হেরা’। আজ ১২ এপ্রিল জাহাজটি কলম্বো বন্দর জেটিতে ভিড়ে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রথমবার যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। বাংলাদেশি মালিকানায় আসার পর এটিই প্রথম ভয়েজ বা যাত্রা।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ৮৩৬ টিইইউস রপ্তানি পণ্য নিয়ে কর্ণফুলী গ্রুপের আরেকটি কন্টেইনার জাহাজ ‘এইচআর রিয়া’ চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর- কলম্বো, চট্টগ্রাম-পোর্ট কেলাঙ বন্দরে চলাচলের জন্য বাংলাদেশি কর্ণফুলী গ্রুপ দুটি ফিডার বা কন্টেইনার জাহাজ চালু করে। এর আগে গত ২০২০ সালের জুন থেকে একই গ্রুপ চালু করে দুটি কন্টেইনার জাহাজ ‘সাহারে’ ও ‘সারেরা’। এখন মোট চারটি জাহাজ এই রুটে চলাচল করেছ।  কর্ণফুলী গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এইচ আর লাইনের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘

জাহাজটির জন্য ১ হাজার ৪৪৫ একক রপ্তানি পণ্যের বুুকিং ছিল কিন্তু আমরা হিসাব করে দেখলাম একদিন আগেই যদি চট্টগ্রাম থেকে রনা না দিই তাহলে কলম্বো বন্দর পৌঁছে এসব রপ্তানি পণ্য মাদার ভ্যাসেল ধরতে পারবে না। তাই একদিন আগেই আমরা রওনা দিয়েছিলাম; আজ ১২ এপ্রিল সঠিক সময়ে কলম্বো বন্দরে ভিড়তে পেরেছে।জাহাজটির প্রথম ভয়েজ হলেও আমরা বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি-যোগ করেন তিনি।

বর্তমানে থাকা দুটি জাহাজ এবং আরো যোগ হওয়া চারটিসহ মোট ৬টি কন্টেইনার জাহাজ দিয়ে ২০২১ সালে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার একক কন্টেইনার পরিবহন করতে সক্ষম হবে এইচ আর লাইনস-বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাইমাহ চৌধুরী। সিঙ্গাপুর রুটে চলাচলকারী একটি জাহাজ তার নামে নামকরন করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ার ক্ষেত্রে নাব্যা সংকটের কারণে নির্ধারিত জাহাজই কেবল প্রবেশের অনুমতি পায়। ফলে

জানা গেছে, ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা থেকে আসা কন্টেইনারভর্তি আমদানি পণ্য সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে পারে না। জেটিতে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় আকারের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পণ্য নামানোর পর; সেখান থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজ বা ফিডার জাহাজে করে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ানো হয়। একইভাবে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারও চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে যায়; সেখান থেকে বড় বা মাদার ভ্যাসেলে তুলে ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকায় যায়। ফলে কন্টেইনারভর্তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও চীনের বন্দরগুলোতে বিদেশী ২২টি ফিডার অপারেটর ৮৪টি কন্টেইনার জাহাজের মাধ্যমে ট্রানজিট রুটে পণ্য পরিবহন করে। দেশীয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্ণফুলী গ্রুপ বাংলাদেশি পতাকাবাহী ৪টি ফিডার ভ্যাসেল পরিচালনা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here