পায়রা বন্দর চ্যানেলে ছয় মিটার গভীরতা ঠিক রাখতে ৪৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের চুক্তি

0
856

বিশেষ প্রতিনিধি
পায়রা সমুদ্রবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে (ইনার ও আউটার চ্যানেল) ছয় দশমিক তিন মিটার গভীরতা বজায় রাখতে জরুরি ড্রেজিংয়ের জন্য সরকার খরচ করছে ৪৩৭ কোটি টাকা। গত ১৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে জরুরি মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডে নুল’র মধ্যে এই চুক্তি সই হয়।

পায়রা সমুদ্রবন্দরে প্রবেশের রাবনাবাদ চ্যানেলটি ১০০-১২৫ মিটার প্রস্থের এবং প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ।  এই দীর্ঘ  চ্যানেল দেড় বছর ধরে খনন করে গভীরতা ঠিক রাখতে প্রায় ৯০ লাখ ৭৫ হাজার মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ করবে খননকারী বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল এবং বেলজিয়ামভিত্তিক কোম্পানি জান ডে নুল’র প্রকল্প পরিচালক জান মোয়েন্স।

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, রাবনাবাদ চ্যানেলের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০০ থেকে ১২৫ কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট চ্যানেলে আনুমানিক ৯ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হবে। ১৮ মাস সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কাজ সমাপ্ত করতে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটির ব্যয় পায়রা বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে নেওয়া হবে।

পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের জরুরি মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন পরবর্তীতে চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে যা ৩টি ধাপে ৩৪ মাসব্যাপী চলবে। চ্যানেলের গভীরতা হবে সাড়ে ১০ মিটার।

এতে পায়রা বন্দরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিসিপিসিএলে নিরবচ্ছিন্ন কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত হবে, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা পূরণ হবে। দেশ কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন অব্যাহত রাখবে আর জাহাজ শিল্পে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পায়রা বন্দররে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্দর অবকাঠামোসহ কন্টেইনার, বাল্ক, এলএনজি, টার্মিনাল স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে আগ্রহী দেশ ও প্রতিষ্ঠান পায়রা বন্দরে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে বলে মনে করছে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here