পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হবে জুলাইয়ে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

চলতি ২০২২ সালের জুলাইয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে।কর্ণফুলী নদীর পাড়ে চট্টগ্রাম ড্রাইডক থেকে চট্টগ্রাম বোটক্লাব পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে এই পিসিটি।
আগামীকাল ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বন্দরের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে রবিবার বিকেলে মতবিনিময় সভার আয়োজন হয়। সেখানে পতেঙ্গা টার্মিনালের বিষয়ে কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার একক কনটেইনার ওঠানামা করতে পারবে। ৬০০ মিটার জেটিতে একসঙ্গে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং ২২০ মিটার দীর্ঘ ডলফিন জেটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানো যাবে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কোন-জেটি টার্মিনাল বন্দরের বহরে যোগ করার কথা ছিল; বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সেটি নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।২০২০ সালের ডিসেম্বরে চালুর লক্ষমাত্রা থাকলেও একদফা পিছিয়ে ২০২১ সালের জুনে নির্ধারিত হয়। পরে সেটি আরো একবছল পিছিয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের শেষ সময় ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় আরও ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আরডিপি বরাবর আবেদন করে প্রকল্প সংস্থা।

এদিকে গত মার্চে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকার। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে সৌদি আরবের ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’, দুবাইয়ের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’, ভারতের ‘আদানি পোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ ও সিঙ্গাপুরের ‘পিসিএ’র মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্পটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক পরিচালনা ব্যয় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামক তিনটি টার্মিনালে মোট ১৯টি জেটি রয়েছে। তবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ও বন্দরের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.