পণ্য পরিবহনে দেশি পতাকাবাহি সমুদ্রগামি জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

4 December, 2021 3 Views

3

নিজস্ব প্রতিবেদক
সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘ অনেক বছর ধরে মন্দার পর এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে; দেশিয় শিল্প উদ্যোক্তারা এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন। এরফলে কভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও যোগ হয়েছে দেশিয় পতাকাবাহি কন্টেইনার জাহাজ। এতে সমুদ্রপথে তো বটেই বিশে^র সমুদ্রবন্দরগুলোতে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে চলা জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে।

এই খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, জাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সরকারী প্রনোদনা, পণ্য পরিবহনে নীতি সহায়তা, দেশে নিবন্ধিত জাহাজের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্ন্তজাতিক বাজারে জাহাজের দাম কমে যাওয়ায় এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করছে দেশের বড় শিল্প গ্রুপগুলো।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মনে করেন, এই খাতে সরকারী নীতি সহায়তা আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় করোনার সময় জাহাজ নিবন্ধন বেড়েছে। এই খাতে বিনিয়োগ হলে দেশীয় নাবিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে। পণ্য পরিবহন বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে। আবার নিজেদের পণ্য পরিবহন করেও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে।
তিনি পরামর্শ দেন, জাহাজ কেনার পর পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রি করা যাবে না এমন শর্ত তুলে দেওয়া হলে এই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

নৌ বাণিজ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় পতাকাবাহি সবচে বেশি সমুদ্রগামি জাহাজ ছিল ২০১২ সালের জুন মাসে; মোট ৬৮টি। জাহাজ ব্যবসায় মন্দার কারণে পরের দুই বছরে দেশিয় জাহাজের সংখ্যা ৪০টিতে নেমে আসে। গত ২০১৯ সালের মধ্যভাগ থেকে জাহাজ সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করে। এখন জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৫৬টিতে উন্নীত হয়েছে। আবার নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে আটটি জাহাজ।

কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহি জাহাজের বহরে যোগ হয়েছে কন্টেইনার জাহাজ যোগ হওয়া এর বড় প্রমান। করোনার সময় ১১৬ কোটি টাকায় দুটি কনটেইনার জাহাজ কিনে এই খাতে ব্যবসা শুরু করেছে কর্ণফুলী লিমিটেড। প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশি পতাকাবাহি কন্টেইনার জাহাজ ছিল না। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি বিদেশি কন্টেইনার জাহাজ মালিকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। জাহাজ দুটি এখন চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং পথে কনটেইনার পরিবহন করছে। প্রতিটি জাহাজ ১ হাজার ৫৫০ একক কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম।
জানতে চাইলে কর্ণফুলী লিমিটেডের পরিচালক হামদান হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যেকোনো সংকটের সঙ্গে সুযোগও থাকে। এ কারণে করোনার বিষয় মাথায় রেখেই কনটেইনার জাহাজে বিনিয়োগ করেছি। এতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, দেশিয় লোকদের কর্মসংস্থান হবে। কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনায়ও সক্ষমতা প্রমানের সুযোগ তৈরী হবে।’

জাহাজের নিবন্ধন প্রদানকারী সংস্থা নৌবাণিজ্য কার্যালয়ের মুখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পে এক বছরে সরকার অনেক সুযোগ–সুবিধা দিয়েছে। বড় জাহাজ আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশীয় জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার রয়েছে। গত বছর দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজে ৫০ শতাংশ পণ্য পরিবহনের বাধ্যবাধকতা রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে উদ্যোক্তারাও এগিয়ে এসেছেন। এখন জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৫৬টিতে উন্নীত হয়েছে। আবার নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে আটটি জাহাজ।

দেশে এখন পণ্যবাহী সমুদ্রগামী সবচেয়ে বেশি জাহাজ রয়েছে কেএসআরএম গ্রুপের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি করোনার সময়ও দুটি সুপারম্যাক্স আকারের বাল্ক বা সাধারণ পণ্য পরিবহনের জাহাজের নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে একটি যোগ হয়েছে করোনা মহামারির সময়। আরেকটি গত ২০১৯ সালের বছরের শেষে আমদানি করে তারা। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বহরে জাহাজের সংখ্যা ২১টিতে উন্নীত হয়েছে।

এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপ দুটি জাহাজ আমদানি করেছে। এসব গ্রুপের বাইরে ভ্যানগার্ড মেরিটাইম লিমিটেড একটি জাহাজ এনেছে। নিজেদের কারখানার জন্য আমদানি পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি বিদেশে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহন করছে এসব জাহাজ।

জানতে চাইলে কেএসআরএম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে সুবিধা বেড়েছে। আবার বিশ্ববাজারে সমুদ্রগামী পুরোনো জাহাজের দর এখন ক্রেতার পক্ষে। বিনিয়োগ বাড়ার কারণ এটি। কেএসআরএম গ্রুপ ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে সংকটের সময়ও জাহাজ কিনছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ভাড়া বাড়লে ব্যবসার সুযোগও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *