পণ্যভর্তি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার নিয়ে বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর

0
1600

বিশেষ প্রতিনিধি
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে পেঁয়াজ, মাছসহ হিমায়িত পণ্য, বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে কিন্তু সেই কন্টেইনার ইয়ার্ডে রাখার পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় সংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্থান সংকটের কারণে জাহাজ থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার নামাতে দেরি হচ্ছে; একইসাথে বন্দরের অপারেশন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। আর রেফার কন্টেইনার বুকিং দিতেও সমস্যায় পড়েছে শিপিং লাইনগুলো।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, মুলত দূর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে সরবরাহ নেয়া কমে যাওয়ায় বন্দর ইয়ার্ডে এসব কন্টেইনার জমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৩শ একক রেফার কন্টেইনার সরবরাহ নেয়া হয় কিন্তু গত তিনদিনে গেছে মাত্র ১শ একক। এরফলে বন্দরের ভিতর রেফার কন্টেইনার রাখা জমে গেছে।
তিনি বলছেন, বন্দরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার রাখার ইয়ার্ডে গতকাল পর্যন্ত ৩ হাজার ২শ একক পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল। সেখানে সর্বোচ্চ ২৬শ একক কন্টেইনার রাখা যায়। এখন আমরা রেফার কন্টেইনারগুলো রেশনিং করে রাখছি; যাতে স্থান সংকটের সৃষ্টি না হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে; কারণ সরকারী ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলেও বন্দর ব্যবহারকারী অন্য সংস্থাগুলো বন্ধ থাকে। ফলে সেসব দপ্তর থেকে অনুমতি আনতে না পারায় বন্ধের সময় পণ্য সরবরাহ একেবারেই কমে যায়। এখন সরকারী-বেসরকারী দপ্তরগুলো সচল হওয়ায় চলতি সপ্তাহে কন্টেইনার সরবরাহ বেড়ে যাবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘কেপ সাইরস’ নামের বিদেশি কন্টেইনার জাহাজে রেফার কন্টেইনার নামাতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কন্টেইনার ইয়ার্ডে স্থান সংকটের কারণে জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামাতে দেরি হয়েছে; এরফলে ২৪ ঘন্টার কাজ শেষ করতে ৩৬ ঘন্টা লেগেছে।
জানতে চাইলে জাহাজটির পণ্য উঠানামার দায়িত্বে থাকা টার্মিনাল অপারেটরের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, রেফার কন্টেইনার রাখার জন্য বিদ্যুতের প্লাগ পয়েন্ট দরকার কিন্তু প্লাগ পয়েন্ট খালি না থাকায় আমরা জাহাজ থেকে এসব কন্টেইনার নামাতে হয়েছে ধীরে। ফলে পণ্য উঠানামা শেষ করতে আমাদের বাড়তি সময় লেগেছে।
বিদেশি জাহাজের দেশিয় শিপিং এজেন্টরা বলছেন, একটি জাহাজে সর্বোচ্চ ১শ থেকে ১২০ বক্স পর্যন্ত রেফার কন্টেইনার রাখার সুযোগ থাকে। সেই কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে রাখা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের বিশেষায়িত ‘রেফার কন্টেইনার ইয়ার্ডে’। সেই কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামানোর আগে ইয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগের পয়েন্ট আছে কিনা নিশ্চিত হতে হয়। বিদ্যুৎ পয়েন্ট না থাকলে রেফার কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয় না; কারণ এসব কন্টেইনার নির্ধারিত তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে হয় সংযোগের মাধ্যমে। সেটি নিশ্চিত না হলে আমদানি পণ্যের মান খারাপ হয়ে যায়।
শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলছেন, বন্ধের সময় বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ কমে যাওয়াটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর একটি স্থায়ী সমাধান দরকার। কারণ বন্দর ব্যবহারকারী সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের সময় সচল না রাখলে এর সমাধান হবে না। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় চালু রাখা হোক। তাহলে পণ্য সরবরাহ বিঘিœত হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here