পঁচনশীল পণ্য ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বন্দর থেকে ছাড়ের সময় দিয়ে বিধিমালা

বিশেষ প্রতিনিধি
পঁচনশীল পণ্য সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বন্দর থেকে ছাড় নেয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন বিধিমালা প্রনয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ‘পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও নিষ্পত্তীকরণ বিধিমালা-২০২১’ নামে খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করে অংশীজনদের কাছে মতামত চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আগামী ২০ মের মধ্যে এই বিষয়ে মতামত দেয়া যাবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, পঁচনশীল পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়ার সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও খালাস সম্পন্ন করতে হবে। এরফলে পঁচনশীল পণ্য বন্দরে পড়ে থাকবে না; বন্দরে তৈরী হবে না কন্টেইনার জটের। রাজস্ব আয় নির্বিঘ্ন হবে। নিলামের জন্য বাড়তি চাপের মুখে থাকতে হবে না বন্দর-কাস্টমসকে।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান বলেন, বিধিমালাটা চূড়ান্ত করার জন্য আমরা বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনসহ অংশীজনদের সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক করেছি। এরপর অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি (অর্থমন্ত্রী) আবারো ব্যবসায়ীদের মতামত নিতে বলেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের চূড়ান্ত করা বিধিমালার ওপর আবারো অংশীজনদের কাছে মতামত চেয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই এটা চূড়ান্ত আকারে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারব।
নতুন এ বিধিমালার আওতায় ফুল, ফল, ওষুধ থেকে শুরু করে পান, কাঁচা চামড়াসহ ৬৪ ধরনের পণ্যের তালিকা করা হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়, পচনশীল পণ্যের কোনো ক্ষতি বা গুণগত বা পরিমাণগত মান যাতে নষ্ট না হয় তা বিবেচনায় রেখে পণ্য খালাসে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও আমদানি-রফতানিসংশ্লিষ্ট প্রযোজ্য শর্তাবলি পরিপালন সাপেক্ষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত পণ্যচালান ছাড়করণ নিশ্চিত করবে।
এক্ষেত্রে কাস্টম হাউজ বা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট বা কাস্টমস স্টেশনে কাস্টমস কর্মকর্তার দায়িত্বের বিষয়ে বলা হয, পচনশীল পণ্যচালানের খালাস ব্যবস্থাপনা দ্রুত করতে প্রতিটি কাস্টম হাউজ বা কাস্টমস স্টেশনে পচনশীল পণ্যের পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও খালাসের জন্য সুনির্দিষ্ট শাখা বা গ্রুপ নির্ধারিত রাখতে হবে। এর মাধ্যমে পচনশীল পণ্যচালান খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিলে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও খালাস সম্পন্ন করতে হবে।
তবে কমিশনারের ভিন্ন কোনো নির্দেশনা বা অন্য কোনো সংস্থার বিশেষ কোনো আদেশ বা বিদ্যমান অন্য কোনো আইন বা বিধি বা আমদানি-রফতানি নীতি আদেশের শর্তপূরণ করতে না পারলে বা এ-সংক্রান্ত সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়ন দাখিল করতে না পারলে খালাস সম্পন্ন হবে না। একই সঙ্গে কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো দায়দেনা বা অপরিশোধিত চার্জ বা অন্য কোনো পাওনা থাকলে কিংবা শুল্কায়িত চালানের পরিশোধযোগ্য করাদি যথাসময়ে পরিশোধ না করলে এ সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
পচনশীল পণ্যচালান খালাসের বিষয়ে আমদানি-রফতানিকারক অথবা তার অনুকূলে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময়ে সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি বা বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করতে পারবে। পাশাপাশি নির্ধারিত দাপ্তরিক সময়সূচির বাইরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি কর্তৃক অবহিতকরণের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ কর্মকর্তা ওই পচনশীল পণ্যচালানের পরীক্ষণ, শুল্কায়ন, খালাস সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
বিধিমালায় বলা হয়, পচনশীল যেসব পণ্যচালান আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়নপত্র, যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, প্রাণী সঙ্গনিরোধ দপ্তর, মৎস্য সঙ্গনিরোধ দপ্তরের প্রত্যয়নপত্র পণ্যচালান আসা বা যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক বা রফতানিকারক অথবা এজেন্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জমা দেবে। প্রযোজ্য সনদ বা অনাপত্তি পাওয়া সাপেক্ষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসের অনুমতি দেবে।
শুল্ক-কর, ফি চার্জ ইত্যাদি পরিশোধের ক্ষেত্রে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে নির্ধারিত ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হবে। তবে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য শুল্ক-কর বা চার্জ স্বাভাবিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
নতুন তৈরি করা বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, আগে এ-সংক্রান্ত যত আইন রয়েছে, এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রহিত হয়ে যাবে।  সেক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার নিলামসহ পচনশীল পণ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করবে। এ কমিটি নিলাম বা ধ্বংস করার বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *