নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের আদেশে বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহনে বড় জটিলতা

0
448

বিশেষ প্রতিনিধি
নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের একটি আদেশ নিয়ে সমুদ্রপথে কন্টেইনারে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরী হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে এই আদেশ কার্যকর হওয়ায় বিদেশি কন্টেইনার জাহাজে পণ্য পরিবহন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরীর শঙ্কা করা হচ্ছে। বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত শিপিং লাইন, জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে কোন সুফল না মিলায় সমস্যা থেকে উত্তরণে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে।
আদেশটি হচ্ছে, বিদেশি কন্টেইনার জাহাজে আমদানি-রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের ১৫ দিন আগে কোন ধরনের এবং কী পণ্য পরিবহন হচ্ছে তা জানাতে হবে এবং নৌ বাণিজ্য দপ্তর থেকে অনলাইনে এই সংক্রান্ত সনদ বা ওয়েভার সনদ নিতে হবে। একইসাথে বাংলাদেশি জাহাজ মালিক সমিতির কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হবে। এর ব্যতয় ঘটলে বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে।
নৌ বানিজ্য দপ্তরের যুক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন, ২০১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশি পতাকাবাহি জাহাজে পণ্য পরিবহনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মোট পণ্যের ৫০ শতাংশ পরিবহন করতে হবে এই আইনে। মুলত দেশিয় মালিকানাধীন জাহাজে পণ্য পরিবহন উৎসাহিত করা এবং পণ্য পরিবহন বাবদ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতেই এই আইন প্রনয়ন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে নৌ বানিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন ফোনে সাড়া না দেয়ায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে বিদেশি জাহাজ কম্পানির প্রতিনিধি, শিপিং লাইনগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয় কিন্তু আমাদের দেশিয় জাহাজে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা সেভাবে এখনো গড়ে উঠেনি। মাত্র দুটি দেশিয় কন্টেইনার জাহাজের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হচ্ছে। বাকি পণ্য পরিবহন হচ্ছে বিদেশি ৮৪টি ফিডার কন্টেইনার জাহাজে। এসব কন্টেইনার জাহাজের সবগুলো বিদেশি জায়ান্ট; বিশে^র বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের সাথে তাদের কানেকটিভিটি রয়েছে। ফলে এখনই এই আদেশ কার্যকর করা হলে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বিপর্যয় তৈরী হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে একটি কন্টেইনার জাহাজ সিঙ্গাপুর পৌঁছতে লাগে চারদিন। সুতরাং ১৫ দিন আগে কী পণ্য জাহাজে উঠবে তা কিভাবে আমি ঘোষনা দিবো?  এটা তো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানিকারকরা এখন ২৪ ঘন্টা আগেও পণ্য জাহাজীকরণ করছে। অর্থাৎ পণ্য জাহাজে তুলছে। তাহলে কিভাবে ১৫ দিন আগে পণ্য বোঝাইয়ের আগাম ঘোষণা দিবো।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহনে উৎসাহ দেয়াটা অবশ্যই দেশের জন্য খুশির খবর সেজন্য আমাদের সক্ষমতা তৈরী করতে হবে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ৫ কার্যদিবস আগে এই ঘোষনা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। একইসাথে শেষমুহুর্তে তৈরী পোশাক শিল্পের মতো যদি কোন কন্টেইনার আষে তখন ঘোষনা সংশোধনের বিধান রাখারও কথা বলেছি। একইসাথে বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ মালিক সমিতি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার বিধানও প্রত্যাহার করতে বলেছি। এখন দেখি নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়।
জানা গেছে, বর্তমানে সিঙ্গাপুর বন্দর, শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর, মালেয়িয়ার পোর্ট কেলাঙ এবং তানজুম পেলিপাস এবং চীনের কয়েকটি বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জাহাজে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। বাংলাদেশি পতাকাবাহি দুটি কন্টেইনার জাহাজ ছাড়া বাকি ৮২টি বিদেশি কন্টেইনার জাহাজ দিয়ে বছরে ৩২ লাখ একক কন্টেইনার পরিবহন হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here