নিয়ম মানছেন না খোদ প্রতিমন্ত্রী ও বন্দর চেয়ারম্যান।

আসলে কতটা সুরক্ষিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ?

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

1 February, 2023

Views

চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বন্দর ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। সম্প্রতি খালি কন্টেইনারে লুকিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক লোক জাহাজে করে মালয়েশিয়ার বন্দরে যাওয়ার পর তার লাশ পাওয়া যায়। এরপরই মুলত নিরাপত্তার ইস্যুটি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। এর আগে কন্টেইনারে লুকিয়ে গত একযুগে ৯ জন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। সব ঘটনা ধরা পড়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের গলদ রয়েই গেছে। বন্দর শুধুমাত্র সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করে সবসময়। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা পরিচালনা-তদারকিতে বড় লগদ থাকায় নিরাপত্তা ঘাটতি দুর করা যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা সুরক্ষিত হয়নি।

বন্দর ব্যবহারকারী বলছেন, সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকতে বন্দর কর্মকর্তারাই নিয়ম মানেন না। সুরক্ষা সামগ্রী পরিধান করেন না। খোদ বন্দর চেয়ারম্যানই বন্দর পরিদর্শনে গেলে পরিধান করেন না নিরাপত্তা সামগ্রী। নৌ প্রতিমন্ত্রীকে সাম্প্রতিক সুরক্ষা সামগ্রী পরিধান ছাড়াই বন্দর পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। যার ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা সামগ্রী পরিধানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জানতে চাইলে বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কিন্তু সেগুলো সচল আছে কিনা, সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। কোথাও না কোথাও দুর্বলতা আছে বলেই এসব ঘটনা ঘটছে বারবার। ফলে সিকিউরিটি সিস্টেম নিয়ে নতুন করে রিভিউ করার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পর বন্দর বিষয়টি কিভাবে তদন্ত করেছে আমরা জানি না। তবে খালি কন্টেইনার ব্যবস্থাপনায় আরো নজর দেয়া উচিত বন্দরের। সবসময় খালি কন্টেইনারেই নিরাপত্তা বেষ্টনী পাচার হয়েই লোক চলে যাচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর খালি বা পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার প্রবেশ করার কিছু নিয়ম আছে। রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার হলে ডিপো থেকে আসার পর বন্দরে প্রবেশের আগে স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। আর খালি কন্টেইনার বন্দরে প্রবেশের সময় কন্টেইনারের একটি দরজা খোলা রেখেই প্রবেশ করতে হয়; উদ্দেশ্য ভিতরে অবৈধ কিছু প্রবেশ করছে কিনা জানা। কন্টেইনারটি প্রবেশের আগে বন্দরের গেইটে নিয়োজিত বন্দরে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা সেটি তল্লাশি করে দেখার নিয়ম আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গেইট দিয়ে সেই কন্টেইনারটি তল্লাশি করা হয়েছিল কিনা? গেইটে থাকা বন্দরের নিজস্ব সিসিটিভ ফুটেজ দেখলেই সেটি পরিস্কার হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক অবশ্য বলছেন, আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন ঘাটতি নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনো জানিনা মালয়েশিয়ার পাওয়া লাশটি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই গিয়েছে কি না। না জানা পর্যন্ত আমরা কিছু নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

শিপিং লাইনগুলো বলছে, খালি কন্টেইনারগুলো সাধারনত ডিপো থেকেই প্রাইমমুভার বা লরিতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। প্রবেশের সময় বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা সেই কন্টেইনার তল্লাশি করে দেখেন এবং কাগজে সই দিয়ে বন্দরের প্রবেশের অনুমতি দেন। আলোচিত কন্টেইনারটি ছিল ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের আর কন্টেইনারের মালিক সিনোকর। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের বেসরকারী বিএম কন্টেইনার ডিপো থেকে খালি কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করে গত ৪ অক্টোবর। এরপর ৬ অক্টোবর ‘সোয়াসদি আটলান্টিক’ জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ থেকে সেটি রওনা দিয়েমালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরের পৌঁছে ৯ অক্টোবর। সেখানে দুদিন থাকার পর কন্টেইনারটি পেনাং বন্দর থেকে ছাড় করে গেইট দিয়ে নেয়ার সময়ই দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পেনাং বন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর লাশের ময়নাতদন্ত করে কিন্তু সেটি প্রকাশিত হয়নি। ফলে লাশের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.