নদী খনন করে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়াচ্ছে ইয়াংগুন বন্দর

0
1007

বিশেষ প্রতিনিধি
বড় আকারের জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দিচ্ছে মায়ানমারের ‘ইয়াংগুন বন্দর’। চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়বে সেই বন্দর জেটিতে। এতদিন আট মিটার থেকে সাড়ে নয় মিটার পর্যন্ত গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারতো সেই বন্দরে। মুলত জাহাজ প্রবেশের পথ ইয়াংগুন নদীতে বড় ধরনের খননকাজ করায় বড় আকারের জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দিতে পেরেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরফলে সমুদ্রপথে তাদের বাণিজ্যে বড় অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশর প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জেটিতে এখন সর্বোচ্চ সাড়ে নয় মিটার গভীরতার এবং ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়তে পারে। ২০১৪ সালে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর আগে  সর্বোচ্চ ১৮৬ মিটার লম্বা এবং ৯ দশমিক ১৪ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। কর্ণফুলী নদীতে বড় ধরনের খননকাজ করে বড় আকারের জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মায়ানমার সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ বড় আকারের খনন কাজের পর সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়ায় এবং সফলভাবে শেষ করে। এরপর থেকে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়ানোর অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ। মায়ানমার সমুদ্রবন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উইন মায়েন্ট অঙ বলেছেন,  ২০২০ সাল আমাদের জন্য ঐতিহাসিক একটি বছর; এই বছর আমরা সবচে বড় আকারের জাহাজ ভিড়াতে পেরেছি। তিনি বলছেন, বড় জাহাজ ভিড়াতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্টার হাই এশিয়া প্যাসিফিক কম্পানির সাথে পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে ইয়াংগুন নদী খনন কাজের জন্য। এজন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। প্রাথমিক খননের পর আমরা এই সুফল পেলাম।

জানা গেছে, মায়ানমারের মোট বাণিজ্যের ৯৫ শতাংশই হয় সমুদ্রপথে। তাদের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর আছে; একটি হচ্ছে ‘থিলাওয়া বন্দর’ আরেকটি হচ্ছে, ‘পোর্ট অফ ইয়াংগুন’। গত জুলাই-নভেম্বর ইয়াংগুন বন্দরে ১৪৯টি জাহাজ ভিড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে ১৩৫টি জাহাজ হচ্ছে ৮ মিটার গভীরতার এবং সেগুলোর পণ্য ধারনক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার টন থেকে ৩০ হাজার টন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here