ধারনক্ষমতার ৮২ শতাংশ কন্টেইনার নিয়ে বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 May, 2022

Views

আমদানির পর যথাসময়ে ডেলিভারি না নেয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে ধারনক্ষমতার ৮২ শতাংশ কন্টেইনার জমে গেছে। এরফলে পণ্য পরিচালন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরী হচ্ছে এই বন্দরে। উদ্বিগ্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ একসপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে; চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএসহ সবাইকে চিঠি দিয়ে দ্রুত ডেলিভারির আহবান জানিয়েছে কিন্তু তাতে খুব একটা সাড়া মিলেনি।

এরইমধ্যে আবারো শুক্র, শনি, রবিবার চলে এসেছে; এই দিনগুলোতে সাধারন ডেলিভারি একেবারে কমে যায়। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারনের শঙ্কা তৈরী হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, আমরা অনেকবার তাগাদা দিয়েছি বন্দর ইয়ার্ড থেকে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি নিতে সাড়া মিলেছে কিছুটা তবে আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। এভাবে পণ্য জাহাজ থেকে নামিয়ে ফেলে রাখলে জট তো তৈরী হবেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার রাখার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ একক। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিলো প্রায় ৪০ হাজার একক কন্টেইনার। ১০ জানুয়ারি এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার এককের বেশি। ফলে উদ্বেগটা বেশ বাড়ছিল। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ধারণক্ষমতার ১৫ শতাংশ খালি রাখতে হয় কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই সংখ্যা ছিল ধারনক্ষমতার বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, কন্টেইনার ডেলিভারির উপর বন্দরের গতিশীলতা নির্ভর করে। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলেও শুক্র, শনি ও রবিবার সহ অন্যান্য সরকারী ছুটির দিনগুলোতে কন্টেইনার ডেলিভারির পরিমাণ কমে যায়। ফলে ইয়ার্ডে আমদানি কন্টেইনারের স্তুপ জমে যায়।

ছুটির দিন ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। আর শুক্র, শনি, রবিবার ডেলিভারি ২ হাজার একক কন্টেইনারের নীচে নেমে আসে। গত ১০ জানুয়ারি ডেলিভারি হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ একক কন্টেইনার; ১২ জানুয়ারি ৪ হাজার ৭৫৪ একক, ১৩ জানুয়ারি প্রায় ৫ হা্জার একক। কিন্তু ১৪ জানুয়ারি ডেলিভারি কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.