ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে শুরু হয়নি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস

0
396

বিশেষ প্রতিনিধি
নৌ যান ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও চার নম্বর সতর্ক সংকেত এবং সমুদ্র উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বা লাইটারিং কাজ শুরু হয়নি। সাগর শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই কাজ শুরুর সম্ভাবনা নেই; ফলে বহির্নোঙরে বড় জাহাজে থাকা  ১০ লাখ টন পণ্য খালাস আটকে গেছে। এর বাইরে সাগর থেকে নদীপথে গন্তব্যে রওনা দেয়ার পর মাঝপথে  বিভিন্ন ঘাটে আটকা পড়েছে ১১ লাখ ৯০ হাজার টন। সবমিলিয়ে ২১ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে।বৈরী আবহাওয়ার কারণে ছোট জাহাজেও পণ্য পরিবহন চরম বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে ছোট জাহাজ বুকিং প্রদানকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী প্রধান মাহবুব রশীদ খান শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, আগে থেকে বোঝাই করা ছোট জাহাজগুলো নদীপথে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দিয়েছে গতকাল বৃহষ্পতিবার রাত থেকেই। আর বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে পাথর, স্ক্র্যাপ এই ধরনের কিছু জাহাজে কাজ শুরু হয়েছে; যেগুলো বৃষ্টিতে কাজ করতে সমস্যা নেই। তবে মোটাদাগে বলা যায় এখনো কাজ শুরু হয়নি বৈরী আবহাওয়ার কারণে।
তিনি বলছেন, বহির্নোঙরে নতুন করে কোন লাইটার বা ছোট জাহাজ বুকিং নেয়নি। আগে বুকিং নেয়া জাহাজগুলো আগে কাজ শুরু করবে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর জাহাজ মালিকরা বুৃকিং নেয়ার জন্য ভীড় করছিলেন কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় বুকিং দেয়া যায়নি। এখন সাগর শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে সবাই।

বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর কাজটি করে থাকে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। জানতে চাইলে শীপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম শামসুজ্জামান রাসেল বলছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে ঠিকই; আমরাও কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকালে চট্টগ্রাম উপক’ল থেকে ছোট বা লাইটার জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাগর উত্তাল থাকায় যেতে পারেনি। আর আগে থেকে কিছু ছোট জাহাজ বহির্নোঙরে আছে সেগুলোও পণ্য নামানোর কাজ শুরুর মাঝপথে বন্ধ করতে হয়েছে চার নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায়। এরফলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠার যে প্রস্তুতি ছিল সেটিও শুরু করা যায়নি।

জানা গেছে, নৌ যান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে ৫৪টি বিদেশি জাহাজে ১০ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে। এসব জাহাজে গম, ভুট্টা ও ছোলা আছে সাড়ে ৪ লাখ টন; পশুখাদ্য আছে দেড় লাখ টন এবং বাকিটা পাথর, কয়লা এবং সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল রয়েছে। জাহাজ থেকে নামিয়ে এসব পণ্য বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাট এবং বহির্নোঙর থেকে ছোট জাহাজে সরাসরি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত সরবরাহ নেয়ার কথা ছিল। গত সোমবার রাত ১২টা থেকে ধর্মঘটের কারণে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটারিং) পণ্য স্থানান্তর কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বহির্নোঙরে অচলাবস্থা চলছিল। শ্রমিকদের খাওয়ার ভাতা দেয়ার বাদি পুরনের পর গতকাল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়। এরফলে টানা ৬৬ ঘন্টা পর বহির্নোঙরে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলো কিন্তু সাগরে চার নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় কাজ শুরু হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here