দেশের জলসীমায় বিদেশি দুই জাহাজের অনুপ্রবেশ

0
837
Southeast Alaska by Gillfoto

শাস্তি নির্ধারণে তদন্ত কমিটি

এম এন ইসলাম, চট্টগ্রাম

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করা ‘সি উইন্ড’ এবং ‘সি ভিউ’ নামের মাছ
ধরার জাহাজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার
সচিবালয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দুটি বিদেশি জাহাজের অনুপ্রবেশের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সভায়
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা জানান, গত ২০ আগস্ট জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে
বহির্নোঙরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটির স্থানীয় এজেন্ট ‘ইন্টারমোডাল প্রাইভেট লিমিটেড’। ‘সি উইন্ড’ এর
দৈর্ঘ্য ৪৬ মিটার ও ‘সি ভিউ’ এর দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার। স্থানীয় এজেন্ট জাহাজ দুটি মার্চেন্ট শিপিং অধ্যাদেশ
অনুযায়ী এনেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে আইন অনুযায়ী জাহাজ এভাবে আসার সুযোগ নেই বলে
জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছ ধরার দুটি ট্রলার মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।
আমরা সেটা ইনকোয়ারি করে ধরতে পারেছি। আমরা এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে
মিটিং করেছি। মিটিংয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।
কাস্টমসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা (দুটি জাহাজ) যে মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়ে
ঢুকেছে এটার আইনগত ব্যবস্থা যা আছে নেবেন। সেটা (কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে) আমাদের
জানানোর পর তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব যে আমরা এই ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে
যাচ্ছি।’
মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে তারা (জাহাজ) এসেছে সেটা কমিটি দেখবে। নামও সত্যিকারভাবে
যা আছে তা কি না সেটা দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে যখন কোনো মাছ ধরার ট্রলার বাংলাদেশে ঢুকতে যাবে মেরামত কিংবা
যেকোনো কারণেই, সেটা তারা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানাবে। এরপর আমাদের মতামতের
ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে তারা ঢুকবে কি ঢুকবে না।’
জাহাজ দুটি কোন দেশের পতাকাবাহী- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওরা ক্যামেরুনের পতাকা নিয়ে
আসছিল। সেটাও তারা নামিয়ে ফেলেছে। জাহাজ দুটি এখন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কন্টিনেন্টালের
(কন্টিনেন্টাল মেরিন ফিসারিজ লিমিটেড) জেটিতে আছে। তবে কোন দেশের মালিকানার জাহাজ তা
তদন্তের পর জানা যাবে।
আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘সব ডিপার্টমেন্ট, সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ,
বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এ বিষয়ে অ্যাকশন নিচ্ছে।’
দুটি জাহাজের অনুপ্রবেশ নিরাপত্তা দুর্বলতা বা হুমকির মধ্যে কি না- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা
হুমকির মুখে নয়। তারা মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়েছে। আমরা যখন ধরতে পারছি তখন সেগুলো যাতে
মুভ না করতে পারে, কোনো জিনিস আনলোড করতে না পারে সে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও
কাস্টমস তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

নষ্ট ইঞ্জিন মেরামতের কথা বলে জাহাজ দুটি প্রবেশ করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া আরও
অনেক কিছু তারা মিথ্যা ডিক্লেয়ার দিয়েছে, এ জন্য তাদের আটকানো হয়েছে। কোন দেশ থেকে তারা
আসছে সেই বিষয়েও তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।
প্রতিটি জাহাজে আটজন করে নাবিক ছিল। জাহাজে আরও কী ছিল সেটা এখনও পরিষ্কার না। তবে কিছু
মাছ ধরার জাল ছিল বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জাহাজ দুটি ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের (আইওটিসি) ইলিগ্যাল, আনরিপোর্টেড এবং
আনরেগুলেটেড ফিশিংয়ের (আইইউইউ) তালিকাভুক্ত।
মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, জাহাজ দুটির কাগজপত্রে অনেক ত্র“টি আছে। পোর্ট
ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তন করা হয়েছে, অর্থাৎ এক জাহাজের পরিবর্তে এই জাহাজের নাম যোগ করা হয়েছে।
পোর্ট ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী জাহাজের কম্বোডিয়া যাওয়ার কথা। সেখানে জাহাজ কীভাবে বাংলাদেশে এলো
সেই বিষয়ে স্থানীয় এজেন্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। মেরামতের কথা বলা হলেও জাহাজে
কোনো ত্র“টি পাওয়া যায়নি।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছউল আলম মন্ডল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স
ইউনিটের সচিব এম খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here