দেশি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি সম্ভব?

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

28 November, 2022

Views

বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিদেশি জাহাজের পাশাপাশি দেশিয় পতাকাবাহি জাহাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুলত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বাংলাদেশি পতাকাবাহি জাহাজের ব্যবহার বাড়িয়ে কর্মসংস্থান, পাশাপাশি আয় বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে বিএসসির জাহাজ ব্যবহার শুরু হবে।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিধি সংশোধন এবং বিপিসি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ছাড়া সেটি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন না মাস্টার মেরিনাররা।

সচিবালয়ে গতকাল রবিবার এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরে থাকা তিনটি জাহাজ তেল আমদানির জন্য ব্যবহার করবে। ব্যবহারের বিষয়টি ঠিক করতে দুই পক্ষ বৈঠক করবে।
আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন সচিব মোস্তফা কামাল। এতে বিপিসির পরিচালক খালিদ আহম্মেদ, বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এস এম মনিরুজ্জামান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে নৌপরিবহনসচিব মোস্তফা কামাল বলেন, বিপিসি এখন থেকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজে তেল পরিবহন করবে। এ জন্য বিএসসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে। সরকারের সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে যে তেল কেনা হবে তার বেশির ভাগ বিএসসির জাহাজে আনা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির সময় দরপত্রে দেশীয় জাহাজ অন্তর্ভুক্তের কথা উল্লেখ থাকবে। তার আগে দুই পক্ষ বৈঠকে বসবে। তাতে সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই হবে। সেখান থেকে একটা সমাধানের পথ বের করা হবে।

বিএসসি বলছে, তাদের বহরে বর্তমানে আটটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংকার’, যাতে তেল পরিবহন করা যায়। ট্যাংকারগুলো হচ্ছে এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা, বাংলার অগ্রদূত ও বাংলার অগ্রগতি। ট্যাংকারগুলোর প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। এরমধ্যে তিনটি জাহাজ এখন দেশের বাইরে ভাড়ায় আছে। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে এসব জাহাজ দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে। এসব জাহাজ বসিয়ে রাখলে লোকসান গুনতে হয়। আর বিপিসি বিদেশি জাহাজ ভাড়া করে বলে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
কিন্তু বিপিসি এবং বিএসসি’র আগ্রহ আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাস্টার মেরিনাররা। তাদের মতে, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলে সরকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা নেই বললেই চলে। কারণ বিদেশি জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করলে কর্তারা বেশি কমিশন পান। ফলে তারা নিজেরাই দেশি জাহাজে পণ্য পরিবহন এড়িয়ে চলেন। বিধি সংশোধনের আগে কর্তারা আন্তরিক হোন। তাহলেই কেবল সুফল মিলবে।

বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আলোকে দেশি জাহাজে পণ্য পরিবহনের জন্য বিএসসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক চুক্তি করা প্রয়োজন; কিন্তু সরকারি সংস্থাগুলো সেটা করছে না। বিপিসি দেশি জাহাজে তেল পরিবহনের কথা বললেও বৈঠকে এ বিষয়ে চুক্তি নিয়ে কোনো কিছু বলেনি।
বিদেশ থেকে সরকারীভাবে পণ্য আমদানিতে ৫০ শতাংশ পণ্য দেশি জাহাজে করে আনার বাধ্যবাধকতা আছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন ২০১৯এ। আইনে আছে, সরকারি তহবিলের অর্থে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্য রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিএসসির মাধ্যমে পরিবহন করতে হবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশ থেকে তেল আমদানির সময় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রয় চুক্তিতে নতুন একটি ধারা যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ক্রয় চুক্তিতে দেশীয় জাহাজ ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকবে। আর বিএসসি যদি দরপত্রে অংশগ্রহণ না করে তাহলে তারা অনাপত্তিপত্র দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.