দুটি বিশেষ জেটিতে সেই ছয় প্রতিষ্ঠানের কাজ করার বৈধতা কতটা?

0
228

বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দরের মুল ছয় জেটিতে ছয় অপারেটর প্রতিষ্ঠান খোলা পণ্য উঠানামার জন্য দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত। তাদের নির্ধারিত জেটি আছে; যেই জেটিতে তারা নির্ধারিত মেয়াদে; নির্দিষ্ট দরে পণ্য উঠানামার কাজ করছে। এখন এই ছয় বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান দরপত্রের বাইরে গিয়ে দুটি বিশেষ জেটিতে বৈধতা ছাড়াই কাজ করছে। একটি হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটি ; যেটির অবস্থান কর্ণফুলী নদীর উত্তরপাড়ে। সর্বশেষ আরেকটি যুক্ত হয়েছে, বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটি; সেটির অবস্থান কর্ণফুলী নদীর দক্ষিন পাড়ে।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটিতে আগে থেকেই খােলা জাহাজ ভিড়িয়ে পণ্য উঠানামা হচ্ছে; সেটিতে এখন নিয়মিতই কাজ করছে ছয় অপারেটর। সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটি; সেটিতে কাজ করার জন্য বরাদ্দ পেয়েছে রুহুল আমিন এন্ড ব্রাদার্স।

দরপত্র ছাড়াই এভাবে ছয় প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করানোয় বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে অন্য বার্থ অপারেটর, পুরণো স্টিভিডােরিং প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

জানতে চাইলে বার্থ অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর এসোসিয়েশনের আহবায়ক (বাল্ক) এম এ বকর শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, আমাদের দরপত্রের শর্তেই উল্লেখ আছে, বন্দরের শোরে বা জেটিতে কাজ করতে হলে আমাদেরকেই কাজ দিতে হবে। ফলে অন্য কারো সেখানে কাজ করার সুযোগ নেই।

কিন্তু কাজ দিতে হবে আর কাজ পায়ার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, আমরা ছাড়া কে কাজ করবে? কার অভিজ্ঞতা আছে এই কাজের?

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মুল জেটির বাইরে এই দুটি বিশেষায়িত জেটি। এসব জেটিতে সাধারনভাবে বন্দরের নিজস্ব জেটি নয়। বন্দরে জাহাজজট বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত হিসেবে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। আর বন্দর যেহেতু পণ্য উঠানামা নিজে করে না। তৃতীয়পক্ষের মাধ্যেম পণ্য উঠানামার কাজটি করে, সুতরাং বিদ্যমান অপারেটর দিয়েই পন্য উঠানামার কাজটি সেরে ফেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে বৈধতা ছাড়া কাজ হচ্ছে; অপরদিকে দরপত্রের মাধ্যমে এসব বিশেষায়িত কাজটি করা গেলে নতুন প্রতিযোগী আসতো। পণ্য উঠানামার খরচ কমতো।

বন্দরের এক শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নাম প্রকাশ না করে বলছেন, বন্দরের পণ্য উঠানামা মুলত গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের কাছেই জিম্মি। এখানে নতুন কারো আসার সুযোগ বন্ধ করা আছে। দরপত্রে শর্ত যোগ করেই অন্যদের প্রবেশ ঠেকানো আছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বন্দরের। এতে পণ্য উঠানামার খরচ অনেক বেশি হচ্ছে; আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের ব্যবসায়ীরাই।

কিন্তু এমনটি হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলছেন, হয়তো একই রকমের কাজ বিধায় তাদেরকে দেয়া হচ্ছে। আর সেসব জেটি তো নিয়মিত বা বন্দরের নিস্ব জেটি নয়। ফলে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে না। এরপরও আমি বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বিধায় বিস্তারিত জেনে নিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here