দুই বছর জিরো পাইরেসির’র পর তিনমাসে একটি দস্যুতার ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায়

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

জিরো পাইরেসি বা দস্যুতামুক্ত রিপোর্টের খ্যাতির পর চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় গত মার্চে একটি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করেছে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ। ২০২২ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রথম প্রান্তিকের তিনমাসে একটি ঘটনা রেকর্ড করায় জিরো পাইরেসি খেতাব থেকে ছিটকে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

২০২০ ও ২০২১ এই দুই বছরে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় কোন দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। এরফলে পরপর দুই বছর দস্যুতামুক্ত ছিল দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। ২০২২ সালের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি দুই মাসে কোন দস্যুতা ঘটেনি। মার্চ মাসে এসে একটি ঘটনা ঘটলো।

২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করে রিক্যাপ। তাদের প্রতিবেদনমতে, জানুয়ারি-মার্চ তিনমাসে বিশ্বের সমুদ্রসীমানায় ২৩টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। শতাংশের হিসেবে দস্যুতা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে, ২৩টি ঘটনার মধ্যে সবচে বেশি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে সিঙ্গাপুর স্ট্রেইটে ১৮টি। ভারতে দুটি, ইন্দোনেশিয়ায় দুটি, বাংলাদেশে একটি দস্যুতা ঘটেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বিশাল জলসীমা দস্যুতামুক্ত থাকায় স্বস্তিতে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী বিশেষ করে জাহাজ পরিচালনাকারীরা। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪ হাজারের অধিক পণ্যবাহি জাহাজ জেটিতে প্রবেশ করেছিল; সমপরিমান জাহাজ বহির্নোঙরে প্রবেশ করে পণ্য খালাস করেছে কিন্তু কোন জাহাজেই তখন দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২১ সালে দস্যুতামুক্ত করা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রথমত চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা এখন সীতাকুন্ড থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত ৫০ নটিক্যাল মাইল; সেই বিশাল সীমানার নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি জাহাজ আসা; সব মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু ২০২২ সালে মার্চে এসে সেই স্বস্তির ধারাবাহিকতা থাকেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.