দুই কারণে কলকাতা বন্দরে কাত হওয়া মেরিন ট্রাস্ট-১ জাহাজ উদ্ধার করা যায়নি

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

দুই কারণে কলকাতা বন্দরে কাত হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘মেরিন ট্রাস্ট-১’ উদ্ধার করা যায়নি। একটি হচ্ছে, জাহাজটি উদ্ধারে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা এবং দিনে ৪৫ লাখ ভারতীয় রুপি ক্ষতিপুরণ হিসেবে দাবি করা। এসব কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে কলকাতা শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের জেটিতে জাহাজটি কাত হয়ে পড়ে আছে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ৫১ কোটি টাকা দামের জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষনায় বাধ্য হয় জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ মেরিনট্রাস্ট লিমিটেড।
জানতে চাইলে মেরিনট্রাস্ট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শেখ সাহিকুল ইসলাম বলেন, জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারে অত্যন্ত কম সময়ে আমরা ভারতীয় নামি প্রতিষ্ঠান ‘গিল মেরিনার্স’কে নিয়োগ দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৩০টি কন্টেইনার পানি থেকে তুলে ফেলেছিল। উদ্ধার কাজ অনেকদুর এগিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির ইন্সুরেন্স কাভারেজ না থাকার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রাখে। সেই সাথে জাহাজটি জেটিতে থাকায় ক্ষতিপুরণ বাবদ দিনে ৪৫ লাখ ভারতীয় রুপি আদায়ের দাবি করে চিঠি দেয়। সেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবাস্তব।

যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, তিন হাজার টনের এই জাহাজটি কোন বড় জাহাজ নয় বা এটি কোন আর্ন্তজাতিক রুটেও চলে না। শুধুমাত্র বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহন করছে। সে হিসেবে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান ট্যারিফ অনুসারে জাহাজটির ক্ষতিপুরণ হিসেবে দিনে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার রুপি দাবি করতে পারে। কিন্তু কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। এই কারণে বাধ্য হয়ে আমরা জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করেছি।

উল্লেখ্য, ২১০ একক আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার বোঝাই করা ‘মেরিন ট্রাস্ট-১’ জাহাজটি গত ২৫ মার্চ কলকাতা শ্যামপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের জেটিতে কন্টেইনার বোঝাইয়ের শেষদিকে কাত হয়ে প্রায় ডুবে যায়। কিন্তু সেখানে পানির গভীরতা কম থাকা, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নাবিকদের চেষ্টায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। এরপর জাহাজে থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাবিক প্রাণে রক্ষা পান। এরপর থেকে সেই নাবিকরা কলকাতার সী ম্যান্স হোস্টেলে আটকা পড়েছেন। এরইমধ্য গত ২২ এপ্রিল জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৮শ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় একটি বিদেশি জাহাজ ‘হাইয়ান সিটি’ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। জাহাজটি চট্টগাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রার একপর্যায়ে বর্হিনোঙরে গিয়ে বাংলাদেশি আরেক জাহাজ ‘এমটি ওরিয়ন এক্সপ্রেসের’ সাথে ধাক্কা লাগে। এতে জাহাজটিতে থাকা কন্টেইনারের সারি এলোমেলো হয়; নষ্ট হয় জাহাজের ভারসাম্য। এই অবস্থায় জাহাজটির যখন কোন কিনারা করতে পারছিল না জাহাজ মালিক-পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। তখনই হস্তক্ষেপ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা দিয়ে, খনন করে জাহাজটি পুণরায় চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে নিয়ে আসে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের এমন একটি উদ্যোগের কারণে বিশাল ক্ষতি থেকে জাহাজটি রক্ষা পেল। আর জাহাজে থাকা রপ্তানি পণ্যের ক্রেতার কাছে পৌঁছানো রোধ করা গেল।
অথচ উল্টো ঘটনা ঘটেছে কলকাতা বন্দরে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ সামান্য উদ্যোগ নিলেই জাহাজটিকে রক্ষা করতে পারত। চাইলেই জাহাজে থাকা পণ্যের ক্ষতি রোধ করতে। কিন্তু বিভিন্ন অভিযোগ তুলে জাহাজটির উদ্ধারকাজ বন্ধ করে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.