ত্রিপুরার পর এবার নৌপথে আসাম যাচ্ছে ১২৫ টন সিমেন্ট

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

18 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি,
এবার বাংলাদেশ থেকে নৌপথে পণ্য গেল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের আসামের পাশে আরেক রাজ্য ত্রিপুরায় নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য গিয়েছিল। এবার নিয়মিত চালান হিসেবেই সিমেন্ট যাচ্ছে আসামের করিমগঞ্জে। বাংলাদেশ থেকে আসামে নৌপথে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে প্রথমবার। গতকাল রবিবার প্রিমিয়ার সিমেন্টের নারায়ণগঞ্জের কারখানা থেকে ১২৫ টন সিমেন্ট নিয়ে আসামের করিমগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের নিজেদের জাহাজ এমভি ‘প্রিমিয়ার-৬’
প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, প্রথমবার গত সেপ্টেম্বর মাসে আমরা নৌপথে পরীক্ষামূলক পণ্য পরিবহন করি। এত সুফল পাওয়ায় এবার আসামে পণ্য পরিবহন শুরু করছি। এতে পণ্য রপ্তানির দুয়ার ধীরে ধীরে উম্মুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে দ্রুত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশেরও রপ্তানির সুযোগ তৈরী হবে।
আমিরুল হক বলছেন,  সড়ক বা রেলপথের চেয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিতভাবেই পরিবেশবান্ধব। শুকনো মৌসুমেও এ চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব, যদি গোমতী নদীর প্রয়োজনীয় অংশগুলোয় নিয়মিত ড্রেজিং করা হয়। এছাড়া কম উচ্চতার ব্রিজের বিষয়েও দ্রুত সমাধান করতে হবে। বড় বড় কার্গো জাহাজ চলাচল উপযোগী করে নৌপথটি ব্যবহার করতে পারলে বাংলাদেশের নির্মাণসামগ্রী মূল্য প্রতিযোগিতায় সেখানে এগিয়ে থাকবে। এছাড়া নৌপথটির নিয়মিত ব্যবহার পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বাড়িয়ে দেবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, এমভি প্রিমিয়ার-৬ জাহাজটি আড়াই হাজার ব্যাগ বা ১২৫ টন প্রিমিয়ার সিমেন্ট নিয়ে আসামের করিমগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। প্রথমে চালানটি নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে মেঘনা নদী দিয়ে আশুগঞ্জ পৌঁছবে। তারপর মেঘনা নদী থেকে সিলেটের কুশিয়ারা নদী দিয়ে সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জে পৌঁছবে। সেখান থেকে নদীপথেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসামের করিমগঞ্জ এলাকায় ঘাটে নোঙর করবে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নারায়নগঞ্জ থেকে করিমগঞ্জ পথ পাড়ি দিতে সাত দিন সময় লাগবে। করিমগঞ্জের কর অ্যান্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই সিমেন্টের চালান আমদানি করছে বাংলাদেশ থেকে। আগামী ৯ নভেম্বর করিমগঞ্জে পণ্যের চালান পৌঁছার পর বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই চালান গ্রহন করবে আসাম সরকার।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌ প্রটোকলের আওতায় এই নৌপথটি ট্রানজিট হিসেবে এত দিন ব্যবহার করেছে ভারত। এবার বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহার শুরু হলো।এটি কোনো ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য এই নৌপথ ব্যবহার করা হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, আসামসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়ন করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এর মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। আবার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে ১১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বারৈয়ার হাট থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটিও প্রশস্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *