তৈরী পোশাক খাতের জন্য ‘কাট অফ টাইম’ আবারও শিথিল করলো বন্দর

বিশেষ প্রতিনিধি,
তৈরী পোশাক রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার জাহাজে তোলার নির্ধারিত সময়সীমা (কাট অফ টাইম) আবারো শিথিল করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালের মার্চ থেকে বিশেষ সুবিধায় পণ্য জাহাজে তোলার সময়সীমা ভোগ করে আসছিল তৈরী পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা। এই সুবিধা বিগত ১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা দুইমাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। তবে তৈরী পাশাক ছাড়া অন্যখাতের রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন না। তারা আগের নিয়মেই রপ্তানি পণ্য জাহাজে তোলার সুযোগ পাবেন।

কাট অফ টাইম অনুযায়ী, একটি জাহাজ জেটিতে আসার দিন রাত আটটার আগেই সব ধরনের রপ্তানি কন্টেইনার বন্দর ইয়ার্ডে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নিয়ম শিথিল করায় জাহাজ জেটিতে আসার পরদিন রাত আটটা পর্যন্ত কন্টেইনার জাহাজীকরণের বা জাহাজে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। এতে করে পোশাক শিল্প মালিকরা বাড়তি ২৪ ঘন্টা সময় পেলেও বন্দর উৎপাদনশীলতার সূচকে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, ‘পোশাক শিল্পের পণ্য জাহাজীকরণে আমরা সব সময় যতœবান, এটিকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করি। দু এক ঘন্টার ব্যবধানে যদি একটি রপ্তানি চালান নির্ধারিত জাহাজে তুলতে ব্যর্থ হয় তার ক্ষতি কিন্তু বড়।’ তবে তিনি এটাও বলছেন, সব সময় এই বিশেষ সুবিধা চালু থাকলে বন্দরের কন্টেইনার ওঠা-নামার শৃঙ্খলাও ঠিক রাখা কঠিন।

জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল থেকে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার জাহাজে তোলার নির্ধারিত সময়সীমা (কাট অফ টাইম) চালু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই নিয়মে একটি জাহাজ কী পরিমান রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যাবে তার একটি হিসাব জেটি ভিড়ার আগেই সে পেয়ে যায়। এতে জাহাজ পরিবহনে সংশ্লিস্টরা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি পৃথক ছক আঁকতে পারেন। কত সময়ে কি পরিমান রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজে তোলা হবে তারও একটি হিসাব কষে ফেলেন। সবকিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসে। কিন্তু তৈরী পোশাক রপ্তানিকারকদের অনুরোধে বারবার এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামার আধুনিক পদ্ধতি কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও (সিটিএমএস) পুরো কার্যকর করা যায়নি এই কারণে।

বিজিএমইএ’র নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী এই মুহুর্তে কাট অফ টাইম অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘২৪ ঘন্টা বাড়তি সময় না থাকলে বিশেষ অনুমোদনের নামে কিছু শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তারা বানিজ্য করে। শেষপর্যন্ত আমাদেরই ক্ষতিটা হয়। তার চেয়ে বরং এটি অব্যাহত থাকলে ভালো।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটি জাহাজ কি পরিমান রপ্তানি কন্টেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে সিঙ্গাপুর কিংবা পোর্ট কেলাং গিয়ে বড় জাহাজে তুলে ইউরোপ-আমেরিকা যাবে তার একটি লক্ষমাত্রা থাকে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে কন্টেইনার যখন জাহাজে তোলা হয় তখন এলোমেলো হয়ে যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *