ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজটের মাশুল গুনছেন দেশের ব্যবসায়ীরা

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 2 Views

2

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট হলে ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এই খবর চলে যায় বিদেশে। তখন এই জটের কারণে সারচার্জ আরোপের হুমকি দেয় বিদেশি ফিডার অপারেটর বা জাহাজ পরিচালনাকারীরা। সবাই তখন উদাহরন টানেন সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা পোর্ট কেলাঙ বন্দরের। এবার সেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরেই দেখা দিয়েছে জাহাজজট; বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কন্টেইনার জাহাজ সেই বন্দরগুলোর জেটিতে ভিড়তে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এরফলে পণ্য রপ্তানিতে নির্ধারিত শিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না; ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর থেকে বড় জাহাজে করে ইউরোপ-আমেরিকার গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানোতে ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। একইসাথে পণ্য আমদানিতে বাড়তি সময় লাগছে আর এই খরচ যোগ হচ্ছে পণ্যের দামে। এর মাশুল গুনছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
এই পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে  ইউরোপ-আমেরিকায় জাহাজে সরাসরি পণ্য পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।
বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের জন্যই আমরা চরমবিপাকে পড়েছি। রপ্তানি পণ্য সঠিক সময়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা সেটি বুঝতে চাইছে না। এখন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর এড়িয়ে পণ্য পাঠানো ছাড়া আমাদের কাছে ভালো কোন বিকল্প নেই। এজন্য আমরা সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে পণ্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছি।
জাহাজের ফিডার অপারেটররা বলছেন, কন্টেইনার জাহাজে আমদানি ও রপ্তানি দুই ধরনের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দর প্রধানত চারটি সমুদ্রবন্দরের ওপর নির্ভরশীল। এরমধ্যে সবচে বেশি ৪৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে; ৩৭ শতাংশ পণ্য হয় শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে। এরপর মালয়েশিয়ার তানজুম পেলিপাস বন্দরে হয় সাড়ে ১২ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের মাধ্যমে হয় ৭ শতাংশ।
জানতে চাইলে একাধিক আমদানিকারক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, একাধিক আমদানিকারক শিপিং এক্সপ্রেস কে বলেন, সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে চট্টগ্রাম আসতে জাহাজের ৭থেকে ৯ দিন সময় লাগে; সিঙ্গাপুরে যেহেতু জাহাজজট থাকে না তাই  পণ্য বুকিংয়ের সময় আমরা সেই বিষয় মাথায় রেখেই পণ্য জাহাজীকরণ করি। প্রস্তুতি না থাকায় এখন জাহাজজটের কারণে রপ্তানি পণ্য নিয়ে সবচে বেশি জটিলতায় পড়েছি। চীন থেকে সবচে বেশি পণ্য আসে সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে। ফলে সেই বন্দরে জাহাজ ভিড়তে দেরি হওয়ায় শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।  শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে সেই বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার পর একটি কন্টেইনার জাহাজকে ৭-১০ দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাড়তি সময় বসে থাকার আর্থিক ক্ষতি পোষাতে কিছু শিপিং লাইন সারচার্জ আরোপ করছে, আবার অনেক লাইন চট্টগ্রাম থেকে নতুন করে পণ্য বুকিং নেয়া সামিয়কভাবে বন্ধ রাখছে।
এই জটিল অবস্থার প্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে আজ বুধবার ঢাকায় সব বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখান সমস্যা সমাধানে সুশ্পষ্ট সমাধানে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেখানে সব পক্ষের প্রতিনিধি উপস্থিতি থাকবে। তারা প্রতিবেদন দেয়ার পর সুপারিশ কার্যকর করবে মন্ত্রনালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *