ট্রানজিটের গতি বাড়াতে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ-ভারত

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 11 Views

11

ট্রানজিট এবং উপকূলীয় নৌ পথে পণ্য পরিবহনে গতি আনতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত। আগামী ২০-২২ অক্টোবর দুদিন ভারতের দিল্লীতে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুদেশের মধ্যে ট্রানজিট বাড়াতে করণীয় এবং উপকূলীয় রুটে পণ্য পরিববহন বাড়াতে আলোচনা হবে।

ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট চুক্তির পর চট্টগ্রাম সমুদবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের প্রথম উদ্যোগ ছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে। এরপর এই পথে পণ্য পরিবহন স্থবির হয়ে গেছে। তবে আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট পণ্য পরিবহন শুরু হয় তার আগে ২০১৬ সালে। সেই রুটে পণ্য পরিবহন খুব বেশি অগগ্রতি হয়নি। বৈঠকে দুই বিষয়েই আলোচনা হবে।

জানতে চাইলে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলছেন, মুলত কভিডের কারণে ট্রানজিটে পণ্য পরিবহন আর এগোয়নি। ২০২০ সালের জুলাই মাসের পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে আর কোন পণ্য আসেনি। আমাদের পক্ষ থেকে কোন জটিলতা নেই; নেই প্রস্তুতির ঘাটতি। বিষয়টি বৈঠকে তাদের জানানো হবে।

জানা গেছে, চার বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে মাশুলের বিনিময়ে ট্রানজিট দেওয়া শুরু হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে কলকাতা থেকে নৌপথে প্রথমে আশুগঞ্জ নৌবন্দর, এরপর সড়কপথে আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রথম চালান যায়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ায় এই পথ ব্যবহার করতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আগ্রহ দেখাবেন আশা করা হয়েছিল কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গত ২০১৬-২০২০ চার বছরে এই পথে কলকাতা থেকে আগরতলায় মাত্র ১৭টি চালান গেছে। এসব চালানে ইস্পাত, চাল, ভোজ্যতেল ও পাথর নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ মাশুল পেয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এই হলো ট্রানজিটের ফল। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এরপর ২০২০ সালের ২০ জুলাই সেজুতি জাহাজে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কুমিল্লা–আখাউড়া হয়ে আগরতলা—এভাবে আরেকটি ট্রানজিটের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আনা চার কনটেইনার লোহা ও ডাল আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌঁছেছে। কনটেইনার ভর্তি এসব পণ্যের চালান সীমান্ত পার হয়ে আগরতলায় যায়। সেই চালানে বাংলাদেশ মাশুল পেয়েছে মাত্র ৫৯ হাজার টাকা। এর বাইরে অবশ্য জাহাজ ভাড়া এবং গাড়ি ভাড়া বাবদ বেসরকারী খাত আয় করেছে ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সরকারের আয়ের চেয়ে বড় কথা হলো ট্রানজিট পণ্য পরিবহন যদি বাড়ে, তাহলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতেই আয় বেশি হবে; বেসরকারী খাত বেশি লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *