টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই ১৫ হাজার নাবিক; অনিশ্চয়তায় ৩৫শ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

0
474

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশি-বিদেশি জাহাজে কর্মরত ১৫ হাজার মেরিনারকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কভিড টিকা দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার এসোসিয়েশন।প্রবাসী শ্রমিকদের মতো অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা না করলে কর্মরত মেরিনারদের জাহাজে যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।  একইসাথে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠানো অনিশ্চয়তায় পড়বে বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মেরিনাররা এই সুযোগ লুফে নিবে।
মার্চেন্ট মেরিনার ক্যাপ্টেন ফয়সাল আজিম বলছেন, সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে কভিড টিকা নিবন্ধন করে দ্রুত দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্চেন্ট মেরিনাররা প্রবাসে চাকরি করে বিপুল রেমিট্যান্স দেশে আনেন। আমরা চাই তাদেরকে ই তালিকাভুক্ত করা হোক।
তিনি বলছেন, আমরা যদি দ্রুত মেরিনারদের টিকার ব্যবস্থা না করি তাহলে অন্যদেশের মেরিনাররা সেই সুযোগ লুফে নিবে। পরে শত চেষ্টা করলে আমরা সেই বাজার ধরতে পারবো না। হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখনই উচিত এই বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া।
নাবিকরা বলছেন,  বর্তমানে বিশ হাজারের মতো নাবিক দেশে-বিদেশের বিভিন্ন জাহাজে কাজ করেন। বর্তমানে নাবিকরা বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বা সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করেন। একজন নাবিক প্রবাসী শ্রমিকের তুলনায় দশগুন বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। এই কারণে সংখ্যায় কম হলেও নাবিকদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বেশ বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
করোনায় নাবিকদের বিদেশ গমন, জাহাজে চাকরিসহ সার্বিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সময়মতো টিকা দিতে না পারায় বহু নাবিকই দেশে আটকা পড়েছেন। আবার অনেকেই জাহাজ থেকে নামতে পারছেন না। নাবিকরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। ফলে টিকাও জুটছে না। প্রবাসীদের টিকা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, কিন্তু সেখানে নাবিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার এসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে। এতে নাবিকরা চাইলেও টিকা দিকে পারছেন না। টিকা দিতে না পারায় জাহাজে যাওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার এসোসিয়েশনের ক্যাপ্টেন আতিক উল খান বলেন, সরকার প্রবাসীদের সুুবিধা দিলেও নাবিকদের ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর সরকার দুই শতাংশ প্রণোদনা প্রদান করে। অথচ এ তালিকায় প্রথমে নাবিকদের অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি। পরবর্তীতে দেন-দরবার করে নাবিকদের প্রবাসী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে নাবিকরাও তাদের প্রেরিত রেমিটেন্সে দুই শতাংশ প্রণোদনা পেয়ে থাকেন। নাবিকরা বিদেশে টাকা রোজগার করলেও ওয়েজ আনার্স বন্ড কেনার সুযোগ নেই।
করোনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার এসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাখায়াত হোসেন জানান, পরিবার-পরিজন ছেড়ে বাংলাদেশের নাবিকরা মাসের পর মাস বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সমুদ্র বন্দরে কাজ করেন। রেমিটেন্সে তাদের অবদান বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। অথচ এ পর্যন্ত নাবিকদের শর্তহীনভাবে জাহাজে যোগদান ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে অনেকগুলো দেশ নাবিক বান্ধব পদক্ষেপ নিয়েছে। কাজেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নাবিকদের টিকাদান এবং স্বাভাবিক ফ্লাইটের মাধ্যমে জাহাজে যোগদান ও প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ফিলিপাইন সরকার তাদের নাবিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের ব্যবস্থা করেছে। নাবিকদের টিকা দেয়া হলে দেশই লাভবান হবে। অন্যথায় চারশ মিলিয়ন ডলারের বাজারে বহুদেশ ভাগ বসাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here