জাহাজের ট্রানজিট মাশুল বাড়াচ্ছে সুয়েজ খাল

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 January, 2022 16 Views

16

সমুদ্রপথে সুয়েজ খাল দিয়ে পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট মাশুল বাড়াচ্ছে সুয়েজ কর্তৃপক্ষ। মিশরের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে জাহাজ মালিক-কন্টেইনার লাইনগুলােকে। এখন কী পরিমান ভাড়া বাড়বে তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ; তবে আগামী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাড়তি মাশুল আদায় শুরু হবে। বাড়তি মাশুল হতে পারে ৬ শতাংশ বেশি।

তবে টোল বৃদ্ধির বিষয়টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি মহামারিতে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়া প্রমোদতরীগুলোও নতুন বাড়তি টোলের বাইরে থাকবে।

এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন হয়। বাড়তি মাশুল আরোপের ফলে বিশ্বব্যাপি পণ্য বিশেষ করে এশিয়া-ইউরােপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে খরচের বোঝা আরেক দফা বাড়বে। এমনিতেই সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ব্যয় এখন সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্ত পণ্য সরবরাহ চক্রে আরো মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে মায়ের্কস লাইনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই ধরনের ঘোষনা গণমাধ্যমে-সোশাল মিডিয়ায় জেনেছি কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে মাশুল বাড়লে অবশ্যই বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, এভার গিভেন জাহাজের দুর্ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে সুয়েজ খাল সচলের পর গত অক্টোবর মাসে সুয়েজ খালের ইতিহাসে পণ্য পরিবহনের রেকর্ড তৈরি হয়। এ সময়ে খালটি দিয়ে ১১ কোটি ২১ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে। অক্টোবরে খাল দিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭৪টি জাহাজ যাতায়াত করেছে। এ সংখ্যা গত ২০২০ সালের অক্টোবরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। গত মার্চে ২ লাখ ২০ হাজার টনের এভার গিভেন দুর্ঘটনায় ছয়দিন বন্ধ ছিল সুয়েজ খাল। এর পরও ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড আয়ের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ১২ মাসে খালের আয় বেড়ে ৫৮৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।

এশিয়া ও ইউরোপকে সংযোগকারী বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত নৌ রুট সুয়েজ খাল। এর দৈর্ঘ্য ১৯৩ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল। বিশ্ববাণিজ্যের ১২ শতাংশ পরিবহন হয় এই পথ দিয়ে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী সুয়েজ খাল দিয়ে বিশ্বের ১০ শতাংশ তেল বাণিজ্য এবং ৮ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপ যায়। বিশ্বের ২৪ শতাংশ শিপিং কনটেইনার এবং ইউরোপ-এশিয়া বাণিজ্যের সব শিপিং কনটেইনার এই পথ দিয়ে পার হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *