জার্মানির বন্দরে আটক বিএসসি’র জাহাজ

বিশেষ প্রতিনিধি
জার্মানির ব্রেমেন বন্দরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। জাহাজটি সমুদ্রে চলাচলের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন না মানায় আটক করা হয়। প্যারিস এমওইউ’র আওতায় থাকা জার্মানির ব্রেমেন বন্দরের পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ এটি আটক করে।
এই জাহাজটির নাম ‘এমটি বাংলার অগ্রদূত’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের পতাকাবাহী তেল পরিবহনকারী এই জাহাজটি ২০১৯ সালে বিএসসি’র বহরে যুক্ত হয়। প্রায় নতুন এই জাহাজটি টাইম চার্টার ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির কাছে ভাড়া দিয়েছে বিএসসি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট জার্মানির ব্রেমেন বন্দরে এটি আটক করা হয়। পোর্ট স্টেট কন্ট্রোলের পরিদর্শনে জাহাজটির আইএসএম সংক্রান্ত অর্থ্যাৎ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত ২৭টি ত্রুটি থাকার অভিযোগে এটি আটক করা হয়েছে। ভাড়া দেওয়া হলেও জাহাজটির আইএসএম ব্যবস্থাপক হলো বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
বিএসসি’র বহরে যুক্ত হওয়া ছয়টি নতুন জাহাজের একটি হলো বাংলার অগ্রদূত। নতুন এই জাহাজটি চীন থেকে ৩০০ কোটি টাকায় কেনা হয়। বিএসসির বহরে যুক্ত হয় ২০১৯ সালে।  প্রায় ১৮৫ মিটার লম্বা জাহাজটি ৩৯ হাজার টন পণ্য পরিবহনে সক্ষম।
অসংখ্য ত্রুটি নিয়ে জাহাজটি সমুদ্র চলাচল করে আটক হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কেন্টাইল মেরিন অফিস। সরকারি এই সংস্থাটি অফিস অর্ডারও জারি করেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। নৌবাণিজ্য অফিসের মূখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন অফিস অর্ডারে সই করেন।
অফিস অর্ডারে বলা হয়, বাংলাদেশী পতাকাবাহী একটি জাহাজে ২৭টি ত্রুটি থাকায় জার্মানির ব্রেমেন বন্দরের পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল অফিস আটক হয়েছে। অধিকাংশ ত্রুটিই আইএসএম বা জাহাজের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা বিষয়ক। এর মাধ্যমে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা যে দুর্বল তার প্রতিফলন হয়েছে। বাংলাদেশের সব জাহাজ মালিক ও জাহাজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে অধিক সচেতন হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়। কারণ বারবার যদি এ ধরনের আটকের ঘটনা ঘটে তাহলে এসব দেশে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
নৌবাণিজ্য অফিসের মূখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের সময় যাতে বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাহাজগুলো নিয়মকানুন মেনে চলে সেজন্য এই অফিস অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আটক হওয়ার পর এখন এসব ত্রুটি সারাতে হবে। জাহাজটির মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা লয়েডস রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধানে এসব ত্রুটি সারানো হবে। এরপর সংস্থাটি সনদ দেওয়ার পর জার্মানির ব্রেমেন বন্দরের পোর্ট স্ট্রেট কন্ট্রোল অফিস থেকে তদারকি করা হবে। সবকিছু ঠিক হলেই বন্দর ত্যাগের অনুমতি দিতে পারে পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল। তার আগ পর্যন্ত জাহাজটি বন্দর ত্যাগের অনুমতি পাবে না।
২০১৯ সালে তৈরি জাহাজে সাতাশটি ডেফিশিয়েন্সি পাওয়া ও আটকের ঘটনায় এই সেক্টরে কাজ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ অত্যন্ত আশ্চর্য হয়েছেন এবং সেই সাথে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর জাহাজ পরিচালনার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *