জাপান-মাতারবাড়ী-মোংলা পণ্য পরিবহনের নতুন রুট

বিশেষ প্রতিনিধি
জাপানের কোভে সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্যবাহি একটি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়ে। সেখানে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী নামিয়ে এরপর জাহাজটি মোংলা বন্দর যায়। সেই বন্দরের জেটিতে মেট্রােরেলের বগি-ইঞ্জিন নামিয়ে জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করে।  জাহাজটি মাতারবাড়ীতে পণ্য নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে না নেমেই পৌঁছে যাচ্ছে মােংলায়। এরমধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর বহুমুখি ব্যবহার শুরু হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে নতুন রুট; এতে পণ্য পৌঁছানো দ্রুত হচ্ছে, অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
আগে সব জাহাজই চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নামিয়ে বাকি পণ্য নিয়ে মোংলা যেতো। মুলত কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে জাহাজ ভিড়ার সুযোগ সৃষ্টির পর থেকেই দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর বহুমুখি ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, এখনতো কেবল প্রকল্প নির্মান সামগ্রী নিয়ে জাহাজগুলো মাতারবাড়ী-মােংলা পণ্য পরিবহন করছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান হলে পণ্যবাহি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে। উম্মুক্ত হবে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার।
জানতে চাইলে মাতারবাড়ী রুটে পরিচালনাকারী জাহাজের শিপিং এজেন্ট ‘এনসিয়েন্ট স্টিম শিপ কম্পানির’ পরিচালক মোরশেদ হারুন বলছেন, এখন তো কেবল প্রকল্পের নির্মান সমাগ্রী নিয়েই জাহাজ ভিড়ছে মাতারবাড়ীতে। জাহাজে যে স্থান খালি থাকছে সেগুলো আমরা কাজে লাগিয়ে অন্য বন্দরের জন্য পণ্য নিচ্ছি। মাতারবাড়ীতে পণ্য নামিয়ে কখনো চট্টগ্রাম বন্দর, কখনে মোংলা বন্দরে নিচ্ছি এসব পণ্য। ভবিষ্যতে যখন বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়বে মাতারবাড়ীতে তখন বিশাল সম্ভাবনা উম্মুক্ত হবে। কোন সন্দেহ নেই। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায়।


জানা গেছে, এমভি হরিজন-৯ জাহাজটি মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়ে ১৫ জুলাই; জাহাজ থেকে বিদ্যুতকেন্দ্রের পণ্য সামগ্রী নিয়ে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের নতুন নির্মিত একটি জেটিতে ভিড়েছিল।  এরপর জাহাজটি গত ২০ জুলাই মেট্রোরেলের ১০ টি বগি ও দুটি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছে এমভি হরিজন-৯।
মোংরা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলছেন, গত ২ জুলাই জাপানের কোভে বন্দর থেকে ছেড়ে আসে এই বাণিজ্যিক জাহাজটি। গত ২০ জুলাই বিকেলে পানামা পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি হরিজন-৯ মোংলা বন্দরের সাত নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করেছে। কোরবানির ঈদের পরে কাস্টমস ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে জাহাজ থেকে বগী ও ইঞ্জিন খালাস করা হচ্ছে। পণ্য খালাসের পর নদীপথে ঢাকার দিয়া বাড়ী এলাকার মেট্রোরেলের জন্য নির্মিত ডিপোতে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-০৮ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবিএম আরিফুর রহমান জানান, এখন থেকে এক-দেড় মাস পরপর নিয়মিত মেট্রোরেলের বগী ও যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়েই আসবে। ২০২১-২০২২ সালের মধ্যে এই প্যাকের আরও ১৩৮ টি রেলওয়ে মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি, ছাড়করন ও পরিবহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *