জাপান-পোর্ট কেলাঙ-চট্টগ্রাম-মাতারবাড়ী-মোংলা রুটে পণ্য পরিবহন করলো ‘হুসেই ওশান’ জাহাজ

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
এবার একসাথে দেশের তিনটি সমুদ্র বন্দরের জন্য পণ্য নিয়ে আসলো বিদেশি ‘হুসেই ওশান’ জাহাজ। জাহাজটি দুই শ্রেনীর পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছলো; এক হচ্ছে প্রকল্পের নির্মান সামগ্রী, দ্বিতীয় হচ্ছে, বাণিজ্যিক পণ্য। জাপানের ফুনাভাসি বন্দর থেকে জাহাজটিতে তোলা হয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক পণ্য; যেগুলাে নামবে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে। আর বিদ্যুত কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী নিয়ে এসেছে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দর থেকে; সেগুলো নামবে মাতারবাড়ীতে কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে।

এর আগে একটি জাহাজ সরাসরি পোর্ট কেলাঙ বন্দর থেকে মাতারবাড়ীতে ভিড়ে এরপর বাকি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। কিন্তু এবারের জাহাজটি একেবারেই ব্যতিক্রম। জাহাজটি আগে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ে এরপর মাতারবাড়ী যাচ্ছে। মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়া এটি ষষ্ট বিদেশি পণ্যবাহি জাহাজ।

‌‌’হুসেই ওশান’ জাহাজটির দেশিয় শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিম শিপ কম্পানির পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, এই জাহাজটিতে দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দরে ভিড়ে পণ্য নামাবে; যা ব্যতিক্রম। জাহাজটি জাপান থেকে যাত্রা শুরু করে বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে, মাঝপথে পোর্ট কেলাং থামিয়ে মাতারবাড়ীর জন্য পন্য বোঝাই করে। এরপর জাহাজটি ভিড়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে বাণিজ্যিক পণ্য নামিয়ে আজকে শনিবার মাতারবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রবিবার জাহাজটি সেখানে ভিড়ে বিদ্যুত কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মান সামগ্রী নামাবে। সেখান থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি রওনা দিয়ে মোংলা পৌঁছবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। মোংলায় পণ্য নামানো শেষে জাহাজটি যাবে মায়ানমারে। সেখান থেকেই জাহাজটি নতুন গন্তব্যে যাত্রা করবে।
মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন বলছেন, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি মাতারবাড়ীতে সপ্তম জাহাজ ভেনাস ট্রায়াম্প ভিড়বে। প্রতিমাসেই তিন থেকে চারটি জাহাজ ভিড়ছে মাতারবাড়ীতে।

জানা গেছে, মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জেটিতে প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’ এসেছিল গত ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’ এসেছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি। তৃতীয় জাহাজ ‘‌‌গ্রান্ড তাজিমা ওয়ান’ আসলো কয়লাবিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য ভারী পণ্য উঠানামার কাজে নির্মিত জেটিতে। পণ্য নামিয়ে জাহাজটি মাতারবাড়ী থেকেই ফিরে যাবে। এরমধ‌্যে দ্বিতীয় জাহাজটি ছিল ব্যতিক্রম; কারণ দ্বিতীয় জাহাজ ‘এসপিএম ব্যাংকক’ জাপান থেকে পণ্য নিয়ে মালয়েশিয়ার ‘পোর্ট কেলাঙ’ বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি সরাসরি মাতারবাড়ীতে পৌঁছে। মাতারবাড়ীতে অর্ধেক পণ্য নামিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ে ১৫ জানুয়ারি।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‌’আমাদের জাহাজগুলো কখনো পোর্ট কেলাং থেকে পণ্য নিয়ে আসছে, আবার কখনো ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এরফলে পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। মুলত আমাদের প্রিন্সিপাল কম্পানি এভারেট এশিয়া লাইনের সাথে যোগাযোগ করে গ্রাহকরা নিজেদের পণ্য দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে সময় সাশ্রয় হচ্ছে, পণ্য পরিবহন খরচ কম হচ্ছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের আগে প্রস্তুত হয়েছে আড়াইশ মিটার প্রস্থ, ১৬ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। গভীর সাগর থেকে জাহাজগুলো চ্যানেল দিয়ে জেটিতে প্রবেশের জন্য বসানো হয়েছে পথ নির্দেশক ছয়টি বয়। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের একপাশে নির্মিত হচ্ছে তিনটি জেটি; যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মান সামগ্রী উঠানামার কাজে। আর অপরপাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *