জরিমানার হুমকিতেও পণ্যছাড়ে সুফল মিলেনি; উল্টো জমেছে কন্টেইনার

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

28 November, 2022

Views

ঈদের ছুটি শেষে শিল্প কারখানা খুলেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যও সচল হয়েছে, পণ্য বেচাকেনা বেড়েছে। এরপরও চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর কন্টেইনার জটের উন্নতি হয়নি। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ কন্টেইনারজুড়ে ছিল বন্দর ইয়ার্ড। জট কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের জরিমানা আরোপের হুমকিতে সুফল মিলেনি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীরা আশা করেছিলেন ঈদের ছুটি শেষে রবিবার শেষে পণ্যছাড়ে গতি ফিরবে কিন্তু আশা গুঁড়েবালি।
এই অবস্থায় আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে ২১ জুলাই থেকে ইয়ার্ডে জমে থাকা পণ্যের ওপর চারগুণ হারে মাশুল আরোপ করতে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের হিসাবে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্দরের সবগুলো ইয়ার্ডে কন্টেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৬২১ একক; আর সক্ষমতা হচ্ছে ৫৩ হাজার ৫১৮ একক। ধারনক্ষমতার বিপরিতে প্রায় ৮৪ শতাংশ কন্টেইনার জমেছিল। অতিরিক্ত কন্টেইনার জমে থাকায় বন্দরের ভিতর পরিচালন ব্যবস্থায় জটিলতা দেখা দিচ্ছিল।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৩ জুলাই চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিলাম সব বন্দর ব্যবহারকারীদের। ঈদের ছুটি শেষে কলকারখানা খুললে আমরা আশা করেছিলমা ডেলিভারি অনেক বাড়বে কিন্তু আশানুরুপ হয়নি। এরফলে বন্দরের ভিতর পরিচালন কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামীকাল ২০ জুলাই পর্যন্ত আমরা দেখবো উন্নতি না হলে ২১ জুলাই থেকে চারগুণ বাড়তি মাশুল আরোপ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার ধারণ সক্ষমতা এখন বেড়ে ৫৩ হাজার ৫১৮ একক। বন্দর ইয়ার্ডে গত ৮ জুলাই ৩৭ হাজার ৯৯৮একক, ঈদ ছুটি শেষে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জুলাই ৪২ হাজার ৮১৫ একক; ১৩ জুলাই ৪২ হাজার ৪৯৯ একক এবং ১৪ জুলাই ৪৩ হাজার ৩১৮ একক কন্টেইনার। ১৫ জুলাই
৪৩ হাজার ২০৬ একক ছিল; ১৯ জুলাই তা আরো বেড়ে ৪৪ হাজার ৬২১ এককে উন্নীত হয়। অর্থ্যাৎ ইয়ার্ডে কন্টেইনারের পরিমান না কমে উল্টো বেড়েছে।

জাহাজ থেকে যে পরিমান কন্টেইনার নামছে সে পরিমান কন্টেইনার বন্দর ছেড়ে ছাড় না নেয়ায় ইয়ার্ডে কন্টেইনােরর স্তুপ হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ডেলিভারির তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময়ে চার হাজার একক কন্টেইনার বন্দর থেকে ছাড় নেয়া হয়। গত ৮ জুলাই ৪ হাজার ৭২১ একক, ৯ জুলাই ১ হাজার ৮৪৫ একক, ১০ জুলাই ৫৩৭একক, ১১ জুলাই কোন কন্টেইনার ডেলিভারি হয়নি। ১২ জুলাই ১ হাজার ১২২ একক এবং ১৩ জুলাই ১ হাজার ২০২ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। আর ১৪ জুলাই কিছুটা বেড়ে ২৬৪৫ একক কন্টেইনার ছাড় হয়। কিন্তু এখনো স্বাভাবিক হয়নি।১৫ জুলাই থেকে১৯ জুলাই সকাল আটটা পর্যন্ত প্রতিদিন পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে কিন্তু স্বাভাবিক হয়নি। দিনে চার হাজার একক কন্টেইনার ডেলিভারিকে স্বাভাবিক বলা হয় কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে কোনদিন চার হাজার এককে পৌঁছেনি ডেলিভারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.