চীন হয়ে পণ্য রপ্তানির প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত?

0
1576

বিশেষ প্রতিনিধি
সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজটের কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা; বিশেষ করে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছের গার্মেন্ট মালিকরা। পরিস্থিতি উত্তরণে ওই দুটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর এড়িয়ে চীন হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। গার্মেন্ট মালিকদের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং সুফল নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জানতে চাইলে জিবিএক্স লিজিস্টকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন,  দুই কারণে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। প্রথমত চট্টগ্রাম থেকে চীন রুটে কন্টেইনার জাহাজ সরাসরি গেলে মাঝপথে সিঙ্গাপুর, কলম্বো, তানজুম পেলিপাসে থামবে। ফলে থামলেই বাড়তি সময় লাগবে। আর যদি না থেমে সরাসরি যায় তাহলে চীন পৌঁছতে সময় কম লাগবে।
তিনি বলেন, সবচে বড় সমস্যা হবে চীন থেকে ইউরোপ এবং চীন থেকে আমেরিকার উচ্চ মাশুল নিয়ে। ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জাহাজজটের কারণে পরিবহন খরচ কমানোর জন্য আপনি বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। উচ্চ মাশুল হওয়ায় এর সুফল মিলবে না। তবে আমদানিকারকরা দ্রুত পণ্য দেশে আনতে পারবেন।
বিদেশি জাহাজের এক মেইন লাইন অপারেটর কর্মকর্তা বলছেন, ধরুন চীন-ইউরোপ রুটে ৪০ ফুৃটের একটি কন্টেইনার ভাড়া আগে ১০ মার্কিন ডলার হলে এখন সেটি বেড়ে ২০ থেকে ২৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আর চীন-আমেরিকা রুটে ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার ভাড়া ৭ থেকে ১২ ডলার হলে এখন সেটি বেড়ে ২৫ থেকে ৩২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে খরচ সাশ্রয়ী কিনা ভেবে দেখতে হবে।
ফিডার অপারেটররা বলছেন, চট্টগ্রাম-চীন রুটে এখন তিনটি বিদেশি কম্পানি মোট ২০টি জাহাজ পরিচালনার অনুমোদন আছে। সেগুলো হচ্ছে, এমসিসি, সিএমএ-সিজিএম-এসআইডিসি, এবং হুন্দাই-সিনোকর।  পর্যাপ্ত রপ্তানি কন্টেইনার না থাকায় তারা এখন এই রুটে জাহাজ পরিচালনা করছে সর্বোচ্চ ১৫টি। ফলে বাকি জাহাজ চলছে না।
হুন্দাইয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, বন্দর-বিজিএমইএ প্রস্তাব কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। যতদিন আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর হবে না; ততদিন এখানে মাদার ভ্যাসেল আসবে না। ততদিন সিঙ্গাপুর, কলম্বো, পোর্ট কেলাংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা এড়ানো যাবে না।
তিনি বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে চীন গিয়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ-আমেরিকায় পাঠানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে মেইন লাইন অপারেটররা। রুট চালুর আগে তারা সেই সক্ষমতা যাচাই করবে। ফিজিবিলিটি দেখবে। সিঙ্গাপুরের বদলে চীন থেকে পরিচালনার কস্টিং তারা বিবেচনা করবে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবায়ন করতে কমপক্ষে ছয়মাস সময় লাগবে।
এমসিসির এক কর্মকর্তা বলছেন, এমসিসির একটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে চীন পৌঁছাতে মাঝখানে ৬টি বন্দরে থামে; সেখান থেকে পণ্য নেয়। এই রুটে রপ্তানি পণ্য না থাকার কারণেই ৬টি বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য জাহাজে তোলে। খুশি করে তা এসব বন্দরে থামে না। প্রতিটি পোর্ট কলে তো অনেক খরচ বহন করতে হয়।  ফলে বিজিএমইএ’র এসব প্রস্তাব বায়বীয়, গ্রহনযোগ্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here