চীনের নিংবো বন্দর বন্ধে বাংলাদেশে প্রভাব পড়বে?

বিশেষ প্রতিনিধি
চীনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর নিংবোতে কভিডের ডেল্টা ধরণের ধাক্কা লেগেছে; টার্মিনােলর এক কর্মী কভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই নিংবো বন্দরের একটি টার্মিনালে পণ্য উঠানামা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এরফলে বিশ্ব শিপিং বাণিজ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাংহাই ও সিঙ্গাপুরের পর নিংবো–ঝোশান হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যস্ততম বন্দর। সেই বন্দরের মেইশান কন্টেইনার টার্মিনালটি পণ্য উঠানামা বন্ধ রাখায় বহির্নোঙরে জাহাজের দীর্ঘ জট লেগেছে। কারণ এই বন্দর থেকে এশিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপে পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
শিপিং লাইনগুলো বলছে, চীনের বন্দরগুলোতে জাহাজজট কতটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তার পর নির্ভর করছে ক্ষতির পরিমান। আর চীন থেকে যেহেতুু বেশিরভাগ আমদানি পণ্য বাংলাদেশে সমুদ্রপথে আসে; চীনের সেই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, নিংবো-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস এখন নেই; নানশা থেকে সাংহাই যায়ার পথে নিংবো বন্দর থেকেপণ্য নিয়ে আসে মায়ের্কস লাইনের একটি জাহাজ। আর সেই বন্দর থেকে খুব বেশি পণ্য বাংলাদেশে আসে না। ফলে এখনই উদ্বেগ দেখছি না। তবে নিংবোর একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনের পাশ্ববর্তী অন্যবন্দরগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে এতে সন্দেহ নেই।
জানতে চাইলে সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আবদুল্লাহ জহীর বলছেন, নিংবো বন্দরের একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে এমনটা আমার মনে হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ সেই বন্দর থেকে চট্টগ্রামে বা বাংলাদেশে সরাসরি কোন জাহাজ সার্ভিস নেই। একটি সার্ভিস আছে যেটা ভায়া হয়ে আসে। টার্মিনাল বন্ধ থাকায় তারা সেই বন্দর এড়িয়ে চলবে।
তিনি বলছেন, রপ্তানি বাণিজ্যে ক্ষতি বা উদ্বেগের কোন সম্ভাবনা নেই; কারণ চট্টগ্রাম থেকে নিংবো হয়ে কোন রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হয় না।
রপ্তানিকারকদের মতে, এখনই পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে না; কারণ শিপিং লাইনগুলোর সাথে পণ্য পরিবহনে নির্ধারিত খরচে আমাদের বার্ষিক চুক্তি আছে। তবে জাহাজজটের কারণে পণ্যের কাঁচামাল আনতে আমাদের সময় যদি বেশি লাগে; এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এম এ সালাম বলছেন, আমরা চীনের বন্দর বন্ধ রাখার বিষয়টি সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। শিপিং লাইনগুলোর সাথে কথা বলে রেখেছি। কোন পণ্য সেই বন্দর দিয়ে বুকিং থাকলে যাতে এড়ানাে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *