চার বছর সৈকতে পড়ে থাকার পর ভাঙ্গা হচ্ছে ‌’ক্রিস্টাল গোল্ড’

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 September, 2022

Views

দীর্ঘ চার বছর সমুদ্র সৈকতে আটকে থাকার পর অবশেষে কেটে ফেলা হচ্ছে ‘ক্রিস্টাল গোল্ড’ জাহাজটি। জাহাজটি ২০১৭ সালে ঘুর্নিঝড়ের আঘাতে বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এরপর থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে থাকা জাহাজটি পর্যটকদের বিনোদন যোগাচ্ছিল ।

বেসিক ব্যাংকের ৪৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় অন্যান্যদের মধ্যে আসামি হন জাহাজটির মালিক ক্রিস্টাল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবার। এরপর থেকে মোরশেদ মুরাদ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পালানো অবস্থায় ‌’ক্রিস্টাল গোল্ড’ এবং ‌’ক্রিস্টাল সাফায়ার’ জাহাজ দুটি আদালতের নির্দেশে lআটক করা হয়। এই আটক থাকা অবস্থায়ই ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজটি।

এরপর ২০১৯ সালে জাহাজটি নিলামে ১১ কোটি টাকায় কিনে নেয় ফাের স্টার এন্টারপ্রাইজ। ভাঙ্গার কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পরিবেশ ধ্বংসের অপরাধে মামলা করে ২ কোটি টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপরই জাহাজটি ভাঙ্গার কাজ আটকে যায়। পরে উচ্চ আদালতে মামলা করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পায় ফোর স্টার।

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল আলম বলেন, জাহাজ ভাঙ্গার কারণে এক হাজার ৪৯১ শতাংশ সৈকতের জীববৈচিত্র্য নষ্ট এবং সামুদ্রিক জীব ধ্বংস হয়। এজন্য ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধ সাপেক্ষে ৩২টি শর্ত মেনে ১৮ নভেম্বর এটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে দুটি জাহাজ কিনেছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক এই সভাপতি এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। বেশ কবছর পণ্য পরিবহনের পর বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্নসাতের বিষয়টি ধরা পড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে পর পালিয়ে আছেন মোরশেদ মুরাদ। এরমধ্যে নাবিকদের বেতন না দেয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ‘ক্রিস্টাল সাফায়ার’ জাহাজ আটক হয়। ব্যাংকের টাকা আত্নসাত করে পালিয়ে বেড়ানো মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিমের দুটি জাহাজই তখন অলস বসে থাকতে থাকতে অচল বা স্ক্র্যাপ হয়ে যায়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি থাকাকালে মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম বেসিক ব্যাংকের ঋণ নিয়ে পুরনো দুটি জাহাজ কিনেন। জাহাজ দুটি হচ্ছে, ‘ক্রিস্টাল গোল্ড’ ও ‘ক্রিস্টাল সাফায়ার’। কেনার পর জাহাজ দুটি প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে এরপর বিদেশের গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করছিল। কিছুদিন এভাবে চলার পর বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে মোরশেদ মুরাদের দুর্নীতিও ফাঁস হয়। বেসিক ব্যাংক থেকে ৪৫০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হন তিনি ও তার পরিবারের ব্যবসা লাটে উঠে।

দুদকের তদন্তের পর মোরশেদ মুরাদ পালিয়ে গেলে ‘ক্রিস্টাল সাফায়ার’ জাহাজটির নাবিকরা দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতনের দাবিতে উচ্চ আদালতে মামলা করেন। আদালত ২০১২ সালে জাহাজটি আটক করার নির্দেশ দেন। এরপর জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে সাগরে অলস বসে আছে। এই অবস্থায় থাকতে থাকতে জাহাজটি অচল হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.