চার কন্টেইনার পণ্য নিয়ে জাহাজ বহির্নোঙরে আসছে আজ ২০ জুলাই

চুক্তির পর ভারতের প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট

0
997

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে উপকূলীয় নৌপথে পণ্য নিয়ে প্রথম জাহাজটি আজ ২০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছবে। বন্দর ও কাস্টমসের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারবে বাংলাদেশি পতাকাবাহি ‘সেঁজুতি’ জাহাজটি।

বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির পর ভারত তাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও মোঙলা বন্দর ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ২০২০ সালের গত মার্চে পরীক্ষামূলক পণ্য পরিবহন শুরু শিডিউল ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেটি পিছিয়ে যায়। এখন সেটি আবার শুরু হলো।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ‘সেঁজুতি’ জাহাজ দুই কনটেইনার টিএমটি স্টিলবার এবং দুই কনটেইনার ডালজাতীয় পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এরপর জাহাজ থেকে স্টিলপণ্যগুলো ট্রাক/ট্রেইলরে করে চট্টগ্রাম-আখাউড়া-আগরতলা সড়কপথ হয়ে ভারতের ত্রিপুরা যাবে। আর ডালজাতীয় পণ্য ট্রাকে করে একই সড়কপথ ব্যবহার করে আগরতলা আইসিপি পর্যন্ত পৌঁছবে। কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে পণ্যগুলো ত্রিপুরায় পৌঁছানো পর্যন্ত বন্দর ও রেলপথে কী ধরনের সমস্যায় পড়ে তা দেখতে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। এরপর ত্রুটিগুলো উত্তরণ করে আনুষ্ঠানিক পণ্য পরিবহন শুরু হবে।

আর্ন্তজাতিক জেনারেল এগ্রিমেন্ট অফ ট্যারিফ এন্ড ট্রেড (গ্যাট) চুক্তি অনুযায়ী, ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহনে সরাসরি শুল্ক আরোপের সুযোগ নেই। তবে দেশের অবকাঠামো ব্যবহার, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পণ্য পরিবহন সেবা দিয়ে বিভিন্ন মাশুল আরোপের সুযোগ আছে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবহার করতে দিয়ে সরকার সেই মাশুলই আরোপ করবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত ১৩ জুলাই এক আদেশে ভারতীয় ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্টের ‘পরীক্ষামূলক পণ্য চালানের’ জন্য মাশুল নির্ধারন করে দিয়েছে। এই সাতটি মাশুল হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ৩০ টাকা, নিরাপত্তা মাশুল ১০০ টাকা প্রতি টন, এসকর্ট মাশুল প্রতি টন ৫০ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল প্রতি টন ১০০ টাকা। এ ছাড়া স্ক্যানিং ফি (প্রতি কনটেইনার) ২৫৪ টাকা এবং বিধি অনুযায়ী ইলেকট্রিক সিলের মাশুল প্রযোজ্য হবে। এই নির্ধারিত সাতটি মাশুল অনুযায়ী একটি কন্টেইনার থেকে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আয় করবে ৭ হাজার ৩৪ টাকা। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য উঠানামা মাশুল, রিভার ডিউজ, পোর্ট ডিউজ আদায় করবে।
প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম  শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, নির্বিঘœ সেবা দিতে কাস্টম হাউসে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই কাজ দ্রæত শেষ করতে আমাদের কিছু বাড়তি লোকবল প্রয়োজন হবে; সেটি পেলে আরও বড় পরিসরে ট্রানজিটের কাজ করতে পারবো। আর চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া পৌঁছতে তিনটি কাস্টমস অতিক্রম করতে হবে এজন্য তাদেরকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে নৌ রুটে এমভি সেঁজুতি জাহাজে নিয়মিত পণ্য পরিবহন করছে ম্যাঙ্গো লাইন। সেই সেঁজুতি জাহাজেই চার কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য আসছে। এরমধ্যে দুই কন্টেইনারে আছে টাটা স্টিলের টিএমটি বার সেটি যাবে আগরতলা; বাকি দুই কন্টেইনারে থাকা ডাল পণ্য যাবে ত্রিপুরা।
জাহাজটির শিপিং এজেন্ট ম্যাঙ্গো লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াকুব সুজন ভূঁইয়া শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘জাহাজটিতে ১৫৫ কন্টেইনার নিয়মিত পণ্য পরিবহন করলেও চার কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য আসছে। ফলে জাহাজটির কাস্টমস, বন্দরের অনুমতি নিয়ে জেটিতে ভিড়তে একদিন সময় লাগবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য উঠানামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা তো প্রতিদিন চার হাজারের বেশি কনটেইনার ডেলিভারি দিচ্ছি। সে অনুযায়ী এটি তো সামান্য। এরপর আমরা নজর রাখছি কতটা দ্রত পণ্যছাড় দেওয়া যায়। আর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত মাসুলেই পণ্যছাড় হবে।
# ২০.০৭.২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here