চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে কন্টেইনারে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড পরিবহনে বাধা কাটল

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

28 November, 2022

Views

বাংলাদেশ থেকে আসা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নিজেদের শেডে রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি। বিএম কন্টেইনার ডিপো’র ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কারণ ছিল হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাখা। তাই ঝুঁকি এড়াতে গত ৯ জুন এই রাসায়নিক বাংলাদেশ থেকে নিতে অস্বীকৃতি জানায় সিঙ্গাপুর পোর্ট। এরপর বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে এই পণ্য পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা কাটলো।

বিএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মইনুল আহসান বলেন, আল রাজী কেমিক্যাল কমপ্লেক্স দেশের অন্যতম শীর্ষ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক। আমরা সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা। এরপ্রেক্ষিতেই তারা গত ১১ আগস্ট ফিরতি মেইলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানায়। ইতোমধ্যে বিষয়টি আমরা চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে চলাচলকারী সব শিপিং লাইনকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উৎপাদনকারী অন্তত ৬টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি রপ্তানিও হয়। সরকার রপ্তানিতে নগদ সহায়তাও দেয়। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৭ কোটি টাকার সমান। রপ্তানি আয় দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যে পরিমাণ রপ্তানি হয়েছে, তা আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পুরো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে তিন গুণ।

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড একটি রাসায়নিক, যা বস্ত্রসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। যেসব দেশে বস্ত্র কারখানা বেশি, সেখানেই মূলত রপ্তানি করেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি করেছে ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামে। মোট ১৪টি দেশে রাসায়নিকটি রপ্তানি হয়।

সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আল রাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের কন্টেইনারে বিস্ফোরণের পর খেসারত দিতে হচ্ছিল দেশের রপ্তানিকারকদের। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে এই রপ্তানি পণ্যটি চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুট দিয়ে পরিবহনে অনীহা জানাচ্ছে শিপিং লাইনগুলো। ফলে বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে ১০৫ কনটেইনার হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আটকা পড়েছিল। পরে সেগুলো নিজেদের কারখানায় ফেরত নিয়ে যায় উৎপাদনকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.