চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড পরিবহন না করার ঘোষণা তিন বিদেশি শিপিং লাইনের

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডবাহী রপ্তানি কন্টেইনার পরিবহন না করার ঘোষণা দিয়েছে বিদেশি তিনটি শিপিং লাইন। বিএম কন্টেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডবাহি রপ্তানি কন্টেইনারে ভয়াবহ বিস্ফোরনে ব্যাপক হতাহতের পর সতকর্তা হিসেবে এমন ঘোষণা আসলো শিপিং লাইনগুলোর পক্ষ থেকে। যদিও এই পদক্ষেপকে সাময়িক বলছে শিপিং লাইন গুলো।
শিপিং লাইনগুলোর এমন সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে আটকা পড়লো অন্তত ১৩০ একক হাইড্রোজেন পার অক্সাইডবাহি কন্টেইনার। যেগুলো কদিনের মধ্যেই জাহাজীকরণ হয়ে ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে যেতো।

ওয়ান লাইনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঘোষনা দেয়া হয়েছে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডবাহি কন্টেইনার পরিবহন না করার। বাংলাদেশে ওয়ান লাইনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, কেন্দ্রীয় অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা হাইড্রোজেন পার অক্সাইডসহ বিপদজনক রপ্তানি কন্টেইনার পরিবহন না করার। আমরা মুলত ১৫দিন আগে থেকেই কাস্টমারদের অবহিত করেছি। এই কারণে আমরা নতুন করে বুকিং নিচ্ছি না। সর্বশেষ ৪ জুন আমরা এই ধরনের কন্টেইনার পরিবহন করেছিলাম। তবে এটা আগের সিদ্ধান্ত বিএম কন্টেইনারের কারণে নয়।
তিনি বলে, এটা সাময়িক সময়ের জন্য দেয়া হয়েছে। বিপদজনক কন্টেইনার নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা হলে আবারো শুরু হবে।

বিষয়টি জানতে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র ওমর ফারুককে জিজ্ঞেস করলে তিনি অবহিত নন বলে কালের কণ্ঠকে জানান।

জানা গেছে, জাপানভিত্তিক ওশান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস লাইন (ওয়ান লাইন) ছাড়াও চীনভিত্তিক ওরিয়েন্ট ওভারসিস কন্টেইনারলাইন (ওওসিএল),হংকংভিত্তিক গোল্ডস্টার লাইন ইতোমধ্যে এই ধরনের বিপদজনক কন্টেইনার পরিবহন না করার কথা গ্রাহকদের জানিয়েছে।
এরফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে অন্তত ১১১ একক কন্টেইনার আটকা পড়েছে; যেগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরী হয়েছে।
বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোর মধ্যে সামিট এলায়েন্স পোর্ট (উত্তর) ৪৯ একক; পোর্ট লিংক লজিস্টিকসে ৩৩ একক, ইস্টার্ণ লজিস্টিকসে ২৪ একক, কেএন্ডটি লজিস্টিকসে সাত একক কন্টেইনার রয়েছে। এর বাইরে আরো বেশ কিছু কন্টেইনার আটকা পড়েছে।
আটকে থাকার তথ্য নিশ্চিত করে কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা সচিব রুহুল আমিন সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার জানামতে ১১১ একক হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের কন্টেইনার কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ, সীলগালা শেষ, শুধুমাত্র জাহাজের স্লট পেলেই রওনা দিবে এমন সময়ে ঘোষণা আসলো কন্টেইনার পরিবহন করবে না। এই অবস্থায় সব কন্টেইনার ডিপোতে আটকা পড়েছে। আমি নিজে ওভার ফোনে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি কয়েকটি শিপিং লাইন আর নিবে না। আর কয়েকটি লাইন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। শেষপর্যন্ত শিপিং লাইনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে কন্টেইনারগুলো ডিপোর বদলে কারখানায় ফেরত নেয়া ছাড়া তো উপায় নেই।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন বেসরকারী বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরনে ৪৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। হাইড্রোজেন পার অক্সাইডবাহি কন্টেইনার যথাযথভাবে মজুদ, সংরক্ষন না হওয়ায় সেখানে বিস্ফোরন হয়ে বলে প্রাথমিক ধারনা ফায়ার সার্ভিসের। বিস্ফোরনের আগে বিএম কন্টেইনরার ডিপোতে ৩৩ একক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার ছিল। যেগুলো মায়ের্কস লাইনের জাহাজে ভিয়েতনাম নেয়ার কথা ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.