চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন, নভেম্বর মাসে পণ্য আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি সামান্য কমেছে

0
1252

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের প্রধান চট্টগ্র্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে সদ্যসমাপ্ত নভেম্বর মাসে পণ্য আমদানি বেড়েছে; তবে রপ্তানি সামান্য কমেছে। অক্টোবর মাসের চেয়ে নভেম্বরে আমদানি বেড়েছে সাড়ে ১৮শ একক কন্টেইনার আর রপ্তানি কমেছে মাত্র ৬৩ একক কন্টেইনার। ২০১৯ সালের সাথে নভেম্বরের তথ্য বিবেচনা করলে অবশ্য রপ্তানিতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
পণ্য পরিবহনকারী শিপিং লাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা আমদানি-রপ্তানির এই চিত্রকে খুবই স্বাভাবিক বলছেন। তাদের মতে, নভেম্বরে আমদানি-রপ্তানি অক্টোবরের চেয়ে বেশি হতো কিন্তু শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর এবং সিঙ্গাপুর বন্দরে জাহাজজটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর মুখি পণ্য আসা বিলম্বিত হয়েছে। জানতে চাইলে বিদেশি জাহাজ পরিচালনকারী জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, নভেম্বরে আমদানি-রপ্তানির গতি স্বাভাবিক আছে। এটি একটু বাড়তো যদি কলম্বো ও সিঙ্গাপুর বন্দরের জাহাজজট না হতো।সেই বন্দরের জাহাজজটের কারণে আমাদের শিডিউল ঠিক রাখা যায়নি। অপেক্ষাকৃত কম জাহাজ আসতে পেরেছে। কম জাহাজ আসা মানেই কম পণ্য পরিবহন পরিবহন। কম পণ্য পরিবহন মানে শিপিং এজেন্টদের কম কমিশন; আর কমিশন মানেই বাংলাদেশের এই খাতে আয় কমে যাওয়া। পুরোটা একটা চেইন এফেক্ট পড়েছে।

মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানিতে আগের ধারায় যে ফিরছে তার প্রমান আমরা গত কয়েকমাস ধরে পাচ্ছি। এই সময়ে আমরা ৫৫ থেকে ৫৭ হাজার একক কন্টেইনার রপ্তানি করে থাকি; আর সেপ্টেম্বরে করেছি ৫৭ হাজার ৮৫৫ একক। অক্টোবরে করেছি ৫৫ হাজার ৬২২ একক।নভেম্বরে করলাম ৫৫ হাজার ৫৫৯ একক কন্টেইনার। অক্টোবরের চেয়ে নভেম্বরে রপ্তানিতে ব্যবধান ছিল মাত্র ৬৩ একক।  রপ্তানির ধারা একেবারেই স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, কভিড-১৯ মহামারির কারণে রপ্তানিতে ধ্বস নামে গত এপ্রিলে। শিল্প কারখানাগুলো চ্যালেঞ্জ নিয়ে সচল করায় বিদেশি ক্রেতারা বাতিল করা এবং স্থগিত করা অর্ডারগুলো পুণরায় দিতে শুরু করে। এর সুফল পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। মে মাস থেকে রপ্তানিতে গতি আসতে শুরু করে। গত জুলাই মাসে গিয়ে বছরের সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানির রেকর্ড গড়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে আগস্ট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গতি বাড়তে থাকে; তবে সর্বশেষ অক্টোবরে রপ্তানি কিছুটা কমে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের চিত্র থেকে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সার্বিক প্রমাণ মিলে। অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও)। তাদের হিসাবে, মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছিল ৬১ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার। করোনার ধাক্কায় এপ্রিলে রপ্তানিতে ধস নেমে ১৩ হাজারে নেমে আসে। মে মাসে কিছুটা বেড়ে ৩০ হাজার এককে উন্নীত হয়; জুন মাসে সেটি আরো বেড়ে ৫০ হাজার এককে উন্নীত হয়েছে। আর জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়ে ৭২ হাজার ৩৫৯ এককে উন্নীত হয়েছে। জুলাই মাসের এই রপ্তানি শুধু ২০২০ সালের জানুয়ারি-জুন এই ছয় মাসের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। আগস্টে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৩১ একক; আর সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯শ একক।সর্বশেষ অক্টোবরে রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬২২ একক কন্টেইনার।

জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় পণ্য আমদানিতেও সবচে বড় ধ্বস নামে এপ্রিলে। মার্চে যেখানে এক লাখ ১০ হাজার একক কন্টেইনার এসেছিল; সেখানে এপ্রিলে আসে মাত্র ৭০ হাজার এককে। পরের মাসে সেটি বেড়ে ৯৬ হাজার এককে উন্নীত হয়; এরপর জুলাই মাসে সেটি বেড়ে এক লাখ ২ হাজার একক; সর্বশেষ নভেম্বর মাসে আমদানি বেড়ে এক লাখ ৭ হাজার এককে উন্নীত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here