চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আগস্টে সর্বোচ্চ আমদানি পণ্য পরিবহন

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন প্রায় দেড় শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে এই বাড়তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে। এরমধ্যে আগস্ট মাসে আমদানির পরিমান ছিল সর্বোচ্চ; তবে রপ্তানি কিছুটা কমেছে।
২০২০ সালের সাথে ২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনা করলে পণ্য পরিবহন বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। এর মধ্যদিয়েই প্রমান হচ্ছে কভিড ধকল কাটিয়ে পুরোদমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে দেশের আমদানি-রপ্তানির গতি।
আগস্টে রপ্তানি কমার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, জুলাইতে এমনিতেই পণ্য উঠানামা সর্বোচ্চ থাকে; বেশ কবছর ধরেই আমরা দেখছি। সুতরাং আগস্টে রপ্তানি কমার চিত্র একেবারেই সামান্য।
তিনি বলছেন, আগস্টে রপ্তানি কমার আরো একটি কারণ হচ্ছে, কভিড শাটডাউন। জুলাইয়ে কোরবান ঈদ পরবর্তী শাটডাউনে শিল্প কারখানা বন্ধ ছিল; সেই ধাক্কাটা রপ্তানি কমার কারণ। তবে আমরা রপ্তানির স্বাভাবিক চিত্র মনে করি মাসে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার একক কন্টেইনার। সে হিসেবে আগস্ট মাসে রপ্তানি বেশি আছে। আর গত বছরের আগস্টের তুলনায় রপ্তানি আরো বেশি আছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের চিত্র থেকে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সার্বিক প্রমাণ মিলে। অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে।
সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নিয়ােজিত জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদরে হিসাবে, ২০২১ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে সাড়ে ৬৯ হাজার একক; যেটা ছিল ২০২১ সালের ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর আগস্ট মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৩ হাজার ৩৯২ একক। ২০২০ সালের জুলাই মাসে রপ্তানি পণ্য পরিবহন ছিল ৭২ হাজার ৩৫৯ একক কন্টেইনার। সেই বছর আগস্টে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছিল ৫৫ হাজার ৪৩১ একক কন্টেইনার।
একইভাবে ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমদানি পণ্য পরিবহন হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৯ একক; আর আগস্ট মাসে পণ্য পরিবহন হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৯ একক; যেটি ২০২১ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি। ২০২০ সালের আগস্ট আমদানি পণ্য পরিবহন ছিল ৯৬ হাজার ৮৩১ একক; আর জুলাইয়ে ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৪৭ একক কন্টেইনার। মুলত ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে করোনার মহামারির ধাক্কায় তখন আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে ধ্বস নেমেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *