চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অক্টোবর মাসে পণ্য পরিবহন রপ্তানি কিছুটা কমেছে; আমদানি বেড়েছে

0
1108

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অক্টােবরে পণ্য রপ্তানি আগের মাস সেপ্টেম্বরের চেয়ে কিছুটা কমেছে; তবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে বেড়েছে। একইসাথে অক্টোবর মাসে পণ্য আমদানি সেপ্টেম্বর মাসের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারির ধকল কাটিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বেড়ে আগের অবস্থানে ফিরছে; তবে অক্টোবরে কিছুটা কমলো। জাহাজ পরিচালনাকারী এবং শিপিং লাইনগুলো বলছে, রপ্তানি এবং আমদানির এই গতি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আগের বছরের সাথে তুলনা করলে এই রপ্তানির গতি খুবই ইতিবাচক।আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে এপ্রিলের বিশাল ধ্বসের পরিস্থিতি থেকে আমরা উত্তরণ করে এই অবস্থায় এসেছি। তবে শঙ্কা হচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকায় আবারো কভিড-১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে আগের মতো অস্থায় পড়লে রপ্তানির এই গতি কমে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, কভিড-১৯ মহামারির কারণে রপ্তানিতে ধ্বস নামে গত এপ্রিলে। শিল্প কারখানাগুলো চ্যালেঞ্জ নিয়ে সচল করায় বিদেশি ক্রেতারা বাতিল করা এবং স্থগিত করা অর্ডারগুলো পুণরায় দিতে শুরু করে। এর সুফল পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। মে মাস থেকে রপ্তানিতে গতি আসতে শুরু করে। গত জুলাই মাসে গিয়ে বছরের সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানির রেকর্ড গড়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে আগস্ট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গতি বাড়তে থাকে; তবে সর্বশেষ অক্টোবরে রপ্তানি কিছুটা কমে যায়।
শিপিং বিষয়ক খুব তথ্যসমৃদ্ধ এবং হালনাগাদ জ্ঞান রাখেন বিদেশি জাহাজ পরিচালনকারী জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত। পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষন হচ্ছে, কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানিতে আগের ধারায় যে ফিরছে তার প্রমান আমরা গত কয়েকমাস ধরে পাচ্ছি। এই সময়ে আমরা ৫৫ থেকে ৫৭ হাজার একক কন্টেইনার রপ্তানি করে থাকি; আর সেপ্টেম্বরে করেছি ৫৭ হাজার ৮৫৫ একক। অক্টোবরে করেছি ৫৫ হাজার ৬২২ একক।ফলে রপ্তানির ধারা একেবারেই স্বাভাবিক। আমরা আশা করছি ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
আমদানির গতির বিষয়ে মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, অক্টোবরে আমরা ১ লাখ ৫ হাজার একক করেছি; সেপ্টেম্বরে করেছি ১ লাখ ৪ হাজার একক কন্টেইনার। গত বছরের একই মাসগুলোর তুলনায় আমদানি কম হলেও আমি বলবো এই কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে আমদানির গতি স্বাভাবিক। আর রপ্তানি বাড়লো আমদানি কমলো এটা তো দেশের জন্য এক ধরনের সুখবর। আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে ডিসেম্বর নাগাদ আমদানির এই গতি অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের চিত্র থেকে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সার্বিক প্রমাণ মিলে। অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও)। তাদের হিসাবে, মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছিল ৬১ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার। করোনার ধাক্কায় এপ্রিলে রপ্তানিতে ধস নেমে ১৩ হাজারে নেমে আসে। মে মাসে কিছুটা বেড়ে ৩০ হাজার এককে উন্নীত হয়; জুন মাসে সেটি আরো বেড়ে ৫০ হাজার এককে উন্নীত হয়েছে। আর জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়ে ৭২ হাজার ৩৫৯ এককে উন্নীত হয়েছে। জুলাই মাসের এই রপ্তানি শুধু ২০২০ সালের জানুয়ারি-জুন এই ছয় মাসের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। আগস্টে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৩১ একক; আর সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯শ একক।সর্বশেষ অক্টোবরে রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৬২২ একক কন্টেইনার।
চট্টগ্রাম চেম্বার সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক, চ্যালেঞ্জিং এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই আমরা রপ্তানিতে বড় সুফল পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা, কঠিন সময়ে কারখানা খুলে দেয়া এবং কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আন্তরিকতাও প্রশংসা করার মতো। তখন যদি দেশের সব শিল্প কারখানা না খুলত, তাহলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকত কল্পনাই করতে পারতাম না।করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই দেশের অর্থনীতির গতি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
শিপিং কম্পানিগুলো বলছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজে ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা অঞ্চলে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার পাঠানোর সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সাড়ে নয়মিটার গভীরতার জাহাজ এবং সর্ব্চ্চো ১৮৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়তে পারে। কিন্তু বিশ্বের সমুদ্রবন্দরগুলোতে এরচেয়ে বড় গভীরতার জাহাজ ভিড়ে বলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছোট কন্টেইনার জাহাজে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলংকার বন্দরে নেয়া হয়। সেখান থেকে মাদার ভ্যাসেল বা বড় জাহাজে পণ্য ইউরোপ-আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here