চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দিনে ডেলিভারি হচ্ছে মাত্র ৩৪২ একক !

বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদের ছুটি এবং শাটডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে। এই বন্দর দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে তিন হাজারের বেশি কন্টেইনার ডেলিভারি নেয়া হয়। কভিড লকডাউনে ডেলিভারির পরিমান দেড় থেকে দুই হাজার এককে নামলে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন সেই হিসাবের চেয়েও অনেক কম পণ্য ডেলিভারি হওয়ায় উদ্বেগ তৈরী হয়েছে বন্দরে।
বন্দরের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গড়ে মাত্র ৩৪২ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে; যা রেকর্ড। এর আগে এত কম পরিমান পণ্য ডেলিভারির রেকর্ড নেই বন্দরে। মুলত ঈদের ছুটি এবং শাটডাউন একই সময়ে হওয়ায় পণ্য ডেলিভারিতে এই অচলাবস্থা নেমেছে।
বন্দরের এক কর্মকর্তা বলছেন, গত রমজানের ঈদের পরদিন সাড়ে ৩শ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে কিন্তু এই ঈদুল আজহা এবং পরদিন কোন পণ্য বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়নি। এই চিত্র দেখে আমরা একটু অবাকই হয়েছি। পরিস্থিতি উত্তরণে তাই তড়িঘড়ি করে সব বন্দর ব্যবহারকারীদের চিঠি দিয়েছি দ্রুত পণ্য ডেলিভারি নেয়ার জন্য।
চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, ঈদের ছুটির তিনদিন এখনো শেষ হয়নি এরইমধ্যে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্যছাড়ের জন্য আমরা চিঠি পেয়েছি। আমরা পণ্য এনে কোথায় রাখবো? কারখানা চালু না থাকলে আমরা এতপণ্য কিভাবে রাখবো?
তিনি বলছেন, রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য কাস্টমস, বন্দর সব খোলা রাখা হয়েছে, পণ্য পরিবহন খোলা রাখা হয়েছে কিন্তু এসব পণ্য জাহাজীকরণ প্রস্তুতির জন্য কারখানার একটি শাখা খোলা রাখতে হয়। কোয়ালিটি কন্ট্রোল খোলা রাখতে হয়; বিদেশি ক্রেতার অনুমোদন প্রয়োজন। এসব নিশ্চিত না করায় রপ্তানি পণ্য তৈরীর পর কারখানায় রয়ে গেছে। আটকা পড়েছে।
দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ওয়েল গ্রুপের এই পরিচালক বলছেন, সরকারকে এত করে বোঝানোর পর আমাদের দাবিতে সাড়া দেয়নি। এখনও বলছি স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে আমরা কারখানা খুলতে চাই। অন্তত এভাবে আমাদের পরিস্থিতি উত্তরণের সুযোগ দেয়া হোক। আর দুরপাল্লার শ্রমিক যারা গ্রামে গেছেন তারা শাটডাউন খুললে কারখানায় আসুক।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তরণে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আজ ২৪ জুলাই পুণরায় চিঠি দিয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেছে এই ভাবে ডেলিভারি বন্ধ থাকলে আগামী ৩/৪ দিন বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেছেন, বন্দরের কন্টেইনার ধারন সক্ষমতা ৪৯ হাজার একক; এর বিপরিতে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কন্টেইনার জমেছে ৪২ হাজার ৫৭১ একক। ঈদের ছুটি এবং লকডাউনে ডেলিভারি না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারন করছে। তাই বিকল্প একটি প্রস্তাব দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান।
উল্লেখ্য, সরকার ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিনের কঠোর শাটডাউন দিয়েছে। এরমধ্যে সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *