চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সবগুলো ১৯০ মিটারের জাহাজ প্রবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ

0
713

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সর্বোচ্চ ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে নয় মিটার গভীরতার (ড্রাফট) জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মুলত বড় জাহাজ দিয়ে দ্রুত এবং বেশি পণ্য খালাসের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ২০১৫ সালে এই সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জাহাজ পরিচালনাকারী ফিডার অপারেটরদের সবাই ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ আনছেন  না। তারা নিজেদের সুবিধামতো কখনো ১৮৫ মিটার দীর্ঘ এবং কখনো ১৮৪ মিটারের কম দৈর্ঘ্যর জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়েই বাড়তি জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে জাহাজের অপেক্ষমান সময় কমবে; আর কম জাহাজ দিয়েই সম পরিমান পণ্য উঠানামা করা সম্ভব। ৬ বছর আগের সেই সিদ্ধান্তটি শতভাগ কার্যকর করতে ৩ মার্চ ২০২১ সালে শিপিং এজেন্টদের সাথে নিয়ে বৈঠক করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান। কারণ ২০১৫ সালে বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়ানোর উদ্যোগের সাথে তিনি মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন। এখন পদোন্নতি নিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ দেয়ার পর থেকেই এম শাহাজাহান সেই উদ্যোগ কার্যকরে ভূমিকা রাখছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, দেখুন আমরা একটা হিসাব কষে দেখেছি ২০২০ সালে যে পরিমান জাহাজ জেটিতে ভিড়িয়ে পণ্য উঠানামা করেছি তার চেয়ে ২০ শতাংশ কম জাহাজ দিয়ে সমপরিমান পণ্য উঠানামা করা সম্ভব ছিল। এখন মাসে আমরা ১১৫ জাহাজ দিয়ে যে পরিমান পণ্য উঠানামা করছি, ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়ানো গেলে মাত্র ৮৫ জাহাজ দিয়ে সমপরিমান পণ্য উঠানামা করতে পারতাম।
তিনি বলছেন, বড় আকারের জাহাজ ভিড়ানোর উদ্যোগ কার্যকর করা গেলে আমরা বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়েই বাড়তি জাহাজ উঠানামা সম্ভব। এরফলে বর্হিনোঙরে জাহাজের অপেক্ষমান সময় কমে আসবে, সময়-অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। এজন্যই বিষয়টি কার্যকর করতে আমরা শিপিং এজেন্টদের সহযোগিতা চেয়েছি।
জানা গেছে, দেশর অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামার যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেটি ধরে রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে জেটি-টার্মিনাল নির্মান করতে হবে। কিন্তু ২০০৭ সালের পর চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কোন জেটি-টার্মিনাল তৈরী হয়নি। ফলে প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বন্দরকে; কারণ দেশের পুরো আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরকে সামাল দিতে হয়। প্রবৃদ্ধির সাথে মিল রেখে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলে সেটি কাঙ্খিত গতির চেয়ে অনেক কম। যেমন সেনাবাহিনীর সহায়তায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল দ্রুত নির্মানের কথা থাকলেও তিনদফা সময় পিছিয়ে তা এখন তা দেড় বছর পর ডিসেম্বরে চালুর লক্ষমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। বে টার্মিনাল এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এই অবস্থায় কিছু নতুন নতুন কৌশল প্রনয়ন করেই প্রবৃদ্ধি সামাল দিচ্ছে বন্দর। এর আগে কী গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিযে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। এখন বড় আকারের জাহাজ ভিড়ানোর উদ্যোগ কার্যকর করেই সক্ষমতা বাড়াতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে বিদেশি শিপিং লাইন পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে সেটি কার্যকর করতে একটু সময় দেয়া প্রয়োজন কারণ অনেক ফ্যাক্টর সেখানে জড়িত।
তিনি বলছেন, ভাড়া এখানে প্রধান ফ্যাক্টর। কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে ভাড়ায় চট্টগ্রাম রুটে জাহাজ পরিচালনা করছেন আবার অনেকে নিজেদের মালিকানাধীন জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করছেন। ফলে তাদেরকে সময় দিতে হবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দর ও মোঙলা বন্দরের একই আকারের জাহাজ ঢুকতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here