চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় ‘পাইরেসি’ ঘটনা বেড়েছে; উদ্বেগও বাড়বে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
বেশ কয়েক বছর ধরে দস্যুতার ঘটনা কমে যাওয়ায় স্বস্তিতে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। সর্বশেষ ২০১৯ সালেও দস্যুতার ঘটনা একেবারে শুন্যে নেমে আসায় বিশ্বের শিপিং বানিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি বেশ উজ্জ্বল হয়েছিল। প্রশংসা পেয়েছিল বন্দর। কিন্তু একবছরের ব্যবধানে রক্ষা হয়নি অর্জনের সেই ধারাবাহিকতা।

২০২০ সালে বাংলাদেশ জলসীমায় ৫টি পাইরেসির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় ৪টি এবং একটি ঘটেছে মোঙলা বন্দর জলসীমায়। বাণিজ্যিক জাহাজে সংগঠিত সশস্ত্র ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরি প্রতিরোধে কর্মরত আর্ন্তজাতিক সংগঠন রিক্যাপ ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ২০ জানুয়ারি এই প্রতিবেদন অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

পাইরেসির ঘটনা বাড়ায় বন্দর ব্যবহারকারী বিশেষ করে শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াবে বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা তাগাদা দিচ্ছেন এখনই পাইরেসি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিদেশি শিপিং লাইনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, দুটি কারণে দস্যুতা ঘটনা বাড়তে পারে। এক হচ্ছে, ২০১৯ সালে দস্যুতা মুক্ত হওয়ার পর তদারককারী কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে ছিল সমন্বয়হীনতা; আর দ্বিতীয়ত ছিল গা ছাড়া ভাব।  এটা একেবারেই করা যাবে না। আমরা জানি বাংলাদেশ জলসীমায় যে পাইরেসি রেকর্ড হয় সেগুলো মুলত রশি চুরির ঘটনা। কিন্তু ছোট ঘটনা হলেও যখন রিপোর্ট হিসেবে রেকর্ড হয় তখন কিন্তু বোঝা আমাদেরকেই বইতে হয়। ফলে খুব সতর্ক থাকার কোন বিকল্প নেই।

রিক্যাপ ২০২০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৪ সালেও চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় ১৬টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল; ২০১৫ সালে তা ১০টিতে, ২০১৬ সালে মাত্র দুটি, ২০১৭ সালে আবারও বেড়ে ১১টি, ২০১৮ সালে আবারও কমে ৯টি এবং ২০১৯ সালে কোন দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে ২০১৬ সালে একটি এবং ২০১৯ সাল ছিল দস্যুতামুক্তির বছর। কিন্তু অর্জনের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর ও কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন ‘আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে তিনমাস হলো। এরমধ্যে কোন দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এর আগে ঘটেছে বলেও আমাকে অবহিত করা হয়নি।  রিক্যাপ বার্ষিক পাইরেসি রিপোর্টটাও আমি দেখিনি। এরপরও এতগুলো ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কিনা আমি অবশ্যই তদন্ত করে দেখবো।’
তিনি বলছেন, আগে যে কৌশলে জলসীমা দস্যুতামুক্ত হয়েছিল এখনও সেই ধারাবাহিকতা আছে। সমন্বয়হীনতা বা গাফিলতির কোন সুযোগ নেই। কোন দুর্বলতা থাকলে অবশ্যই সেটি দেখবো।

২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সবচে বেশি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালীতে; যার সংখ্যা ৩৪টি। আর দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়াতে; যার সংখ্যা ২১টি। ফিলিপাইনসে ঘটেছে ১৩টি। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ৯টি। ২০১৯ সালের ভারতে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল ৫টি। ফলে সেখানেও বেড়েছে।

রিক্যাপ রিপোর্টে, রেকর্ড করা ৫টি ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বন্দর জলসীমার কুতুবদিয়া এলাকায় ১২ ডিসেম্বর ২০২০ সালে, ব্রীজ ওয়াটার ৮০ জাহাজে। একটি ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটি-৬ এ; ২৪ মে ২০২০ সালে এফএসএল ওসাকা ট্যাংকার জাহাজে। ৬ মার্চ ঘটেছে জলসীমায় ক্যাপিটাল টি ২০০/অন্তরা কোহ-১৮ টাগবোটে। ৭ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে মাতারবাড়ী অ্যাংকরেজে এএসএল আমবার জাহাজে। একটি ঘটনা ঘটেছে মোঙলা বন্দর জলসীমার পশুর নদীতে ২৬ নভেম্বর ২০২০ সালে এপিক বলিভার জাহাজে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের বহির্নোঙর ও জলসীমায় আসা জাহাজে চুরি-দস্যুতা-ডাকাতির ঘটনা বাড়লে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে বাড়তি জাহাজ ভাড়া আরোপ করে বিদেশি জাহাজ মালিক ও শিপিং লাইনগুলো; এতে বিপাকে পড়তে হয় দেশিয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের। আর বাংলাদেশমুখি রুটে জাহাজ ভাড়া দিতে চায় না বিদেশি জাহাজ মালিকরা। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর ধারাবাহিকভাবেই সেই উদ্বেগ কাটিয়ে উঠেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *