চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১ শতাংশ কন্টেইনার জাহাজ ‘অনএরাইভাল’ বার্থিং

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 January, 2022 15 Views

15

বিশ্বের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যখন জাহাজজটে নাকাল; তখন দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জেটিতে জাহাজ ভিড়ছে জট ছাড়াই। গত আগস্ট মাস থেকে সেই অগ্রগতির শুরু; সেপ্টেম্বরে ছিল ধারাবাহিকতা, সর্বশেষ অক্টোবর মাসে অগ্রগতি ধরে রাখতে পেরেছ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরে জুলাই মাসেও একটি কন্টেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে পৌছে জেটিতে ভিড়ার জন্য ৩ থেকে ৫দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। জাহাজজটে বন্দর ব্যবহারকারীরা উদ্বিগ্ন থাকতো। এখন পুরোপুরি উল্টো চিত্র দেখা মিলেছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় ধরনের সুখবর।

চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আসা-যাওয়ার এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন আবদুল্লাহ জহীর। বর্তমানে তিনি সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলছেন, একেবারে ব্যক্তিগত আগ্রহেই জাহাজ ভিড়ার তথ্য সংগ্রহ শুরু করি আগস্ট মাসে। সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরে সেই অগ্রগতি ধরে রাখতে পেরেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এটা সত্যিই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এই অগ্রগতি বিশ্বের শিপিং বানিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে অন্যভাবে দেখা হবে এখন।

তিনি বলেন, আগস্টে অন এরাইভাল বা দিনে দিনেই জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে মোট কন্টেইনার জাহাজের প্রায় ৫৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর অক্টোবরে ছিল সাড়ে ৩৫ শতাংশ। ফলে তিনমাস গড় করলে এই হার ৪১ শতাংশে দাঁড়ায়। এটা বড় অর্জন।

তাঁর হিসাবে, একদিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়তে পেরেছে এমন জাহাজের সংখ্যা মোট জাহাজের আগস্টে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল সাড়ে ৩২ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ৩৯ শতাংশ। আর দুদিন অপেক্ষার পর জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে আগস্টে প্রায় ৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৩ শতাংশ। অক্টোবরে সাড়ে ১৮ শতাংশ। আর তিনদিন অপেক্ষার পর আগস্টে জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ভিড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। অক্টোবরে ভিড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে কোনো জেটি-টার্মিনাল বাড়েনি; পণ্যবাহি কন্টেইনার জাহাজ আসাও কমেনি। বন্দরের সক্ষমতাও রাতারাতি উন্নতি হয়নি। তাহলে কি কনটেইনার জাহাজ আসা কমেছে?

চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের তথ্যও বলছে, অক্টোবরে জাহাজ আসা কমেনি, উল্টো বেড়েছে। আর জাহাজে পণ্য আসার পরিমাণ কমেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান বলছেন, বেশ কিছু কৌশল প্রয়োগ এবং সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এই অর্জন হয়েছে। আমি প্রতিদিন জাহাজ আসা-যাওয়ার তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করেছি। বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে আন্তরিকভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেছি।

তিনি বলেন, অফডকে পণ্য ডেলিবারি বাড়ানো, বন্দর থেকে পণ্য ছাড় দ্রুততর করা, কন্টেইনার জাহাজের চাহিদা অনুযায়ী কোটা বাড়ানো-কমানো। সবমিলিয়ে একটি কার্যকর উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এখন এটি ধরে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *