চট্টগ্রাম বন্দরে সাধারণ পণ্য উঠানামায় রেকর্ড ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

0
529

বিশেষ প্রতিনিধি
কার্গো বা সাধারন পণ্য উঠানামায় এবার চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড অগ্রগতি হয়েছে। গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে কন্টেইনার উঠানামার প্রবৃদ্ধি যেখানে ৩ শতাংশ; জাহাজ আসা-যাওয়ার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ; সেখানে কার্গো উঠানামায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। বাল্ক বা কার্গো পণ্য উঠানামায় চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা তেমন আধুনিক হয়নি। সেই সাথে কভিড মহামারির ধাক্কা তো ছিলই। এরমধ্যেই কার্গো পণ্য উঠানামায় নতুন এই রেকর্ড গড়লো দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলছেন, কভিড মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের অনেক দেশ এমনকি অনেক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে এখনো ব্যাপক জাহাজজট চলছে। সেই ধাক্কা সামাল দিতে সেসব দেশ কাহিল হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কিন্তু প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। কার্গো উঠানামায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তারই প্রমান।
তিনি বলছেন, কভিড মহামারির লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দর সপ্তাহে সাতদিন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা ছিল। ফলে বন্দর নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিপাকে পড়তে হয়নি। আমরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টন আমদানি-রপ্তানি পণ্য উঠানামা হয়েছে। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য উঠানামা হয়েছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমান ছিল ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য উঠানামা হয়েছিল ৯ কোটি ২৯ লাখ ২৩ হাজার টন।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটির মধ্যে মা্ত্র ৬টিতে সাধারন বা বাল্ক পণ্য উঠানামা হয়ে থাকে। বাকি সব জেটিতে কন্টেইনার পণ্য উঠানামা হয়।চট্টগ্রাম বন্দর সবসময়ই কন্টেইনার পণ্য উঠানামা আধুনিকীকরণেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। জেটি-টার্মিনাল আধুনিকায়ন, কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ সব আধুনিক যন্ত্র যোগ করা হয়েছে এসব কন্টেইনার জেটিতে। তার বিপরিতে বাল্ক জাহাজ ভিড়ার জন্য কোন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেই ৬টি জেটি আছে সেগুলো জোড়াতালি দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলছেন, বন্দরের যত আধুনিকায়ন সবই কন্টেইনার উঠানামা ঘিরে। যেই কারণে কন্টেইনার জাহাজের অপেক্ষমান সময় আড়াই দিন। আর বাল্ক বা সাধারন কার্গো জাহাজের অপেক্ষমান সময় ১৭ থেকে ২৫ দিন। এই কারণে বন্দর জেটিতে বাল্ক জাহাজ আনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন জাহাজ মালিক আমদানিকারকরা। বন্দরের উচিত এখন বাল্ক জেটিতে গুরুত্ব দেয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here