চট্টগ্রাম বন্দরে পাটের ব্যাগ জাহাজীকরণে নতুন রেকর্ড

0
659

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের সাধারন ৬টি জেটিতে পণ্য উঠানামার আধুনিক কী গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। এসব জেটিতে খোলা জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা হয় সনাতন পদ্ধতিতে। এই সনাতন পদ্ধতির মধ্যেও নিজস্ব কৌশল কাজে লাগিয়ে পণ্য জাহাজীকরনে নতুন এক রেকর্ড করেছে বার্থ অপারেটর পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থা।
বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। সেই জাহাজে রপ্তানির জন্য ২৪ ঘন্টায় পাট ব্যাগ বোঝাইয়ের লক্ষমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৭শ টন; কিন্তু এখন ২৪ ঘন্টায় জাহাজীকরণ হচ্ছে ১৮শ টন পাট ব্যাগ।
জানতে চাইলে বার্থ অপারেটর পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার পরিচালক রফিকুল আনোয়ার বাবু শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, জাহাজটিতে প্রথমদিকে ১শ টন পণ্য জাহাজীকরন করা যাচ্ছিল না। প্রথমত বৃষ্টি সাথে পাটের ব্যাগ জাহাজে তোলার কাজটি জটিল হয়ে পড়ছিল। সেই অবস্থা দেখে আমি নিজস্ব কৌশল বের করে প্রয়োগ শুরু করলে সুফল মিলে। আমরা এখন জাহাজে থাকা আমদানি পণ্য দেখে পণ্য উঠানামার নিত্যনতুন কৌশল প্রয়োগ করি। এই কৌশল কেউ শিখিয়ে দেয়নি অভিজ্ঞতার সফল সেটি।
শিপিং এবং জেটিতে পণ্য উঠানামায় ২৭ বছরের অভিজ্ঞ রফিকুল আনোয়ার বলছেন, জাহাজটিতে চারটি ক্রেন ছিল; একটি নতুন শোর ক্রেন আমি যোগ করি। সেইসাথে বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক এবং আমার বিশেষ কিছু পরাদর্শী শ্রমিক দিয়ে পণ্য উঠানামা শুরু করি। এতেই আমি ২৪ ঘন্টায় ১৮শ টন পর্যন্ত করতে সক্ষম হয়েছি। কাজ শেষ করার পর আমি নিজেও খুব তৃপ্তি পেয়েছি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের কারখানায় তৈরী ১৭ হাজার টন পাঠের ব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে আফ্রিকার দেশ সুদানে। গত অক্টোবর মাসে একটি চালানে ১০ হাজার টন পাটের ব্যাগ রপ্তানি হয়েছিল; কিন্তু সেটি কন্টেইনারে ভর্তি হয়ে। এবার চালানটি যাচ্ছে খােলা জাহাজে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সুদানের কম্পানিটি ভাড়া করেছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী এখন খোলা জাহাজে এসব পাট ব্যাগ পাঠানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে  বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) জাকির হোসেন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কন্টেইনারের চেয়ে খোলা জাহাজে  ‌পণ্য পরিবহন ব্যয় সাশ্রয়ী। আর সময় লাগবে কম। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজ পৌঁছবে সুদানের বন্দরে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষমাত্রা ছিল দিনে ৭শ টন পাট ব্যাগ জাহাজে তোলা। প্রথম কয়েকদিন সমস্যা থাকলেও পরবর্তীতে বার্থ অপারেটরের দক্ষতায় সেটি এখন দিনে ১৬শ টনে পৌঁছেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই আমরা সব পণ্য জাহাজীকরণ সম্পন্ন করতে পারবো। দ্রুত কাজ শেষ করতে পারা আমাদের জন্যও বিষয়টি গৌরবের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here