চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা পণ্যের নিলাম ৯ জুন

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পণ্যের ধারাবাহিক নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ৯ জুন। এই নিলামে গাড়িসহ  বিভিন্ন আমদানি কাপড়, পণ্য এবং রাসায়নিক পণ্য রয়েছে। কভিডের দ্বিতীয় ধাক্কায় বন্দরের নিলাম প্রক্রিয়া থমকে যায়। সেটি কাটিয়ে এখন আবারো নিলাম শুরু হচ্ছে। ধারাবাহিক নিলাম থাকলে বন্দরে কন্টেইনার জট সহনীয় থাকে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (নিলাম শাখা) মো. আল আমিন বলেন, ধারাবাহিক নিলামে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল কভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা। এখন সেই ধাক্কা কাটিয়ে আবারো আমরা নিয়মিত নিলাম কাজ শুরু করেছি। চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা আটককৃত এবং অখালাসকৃত পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিলামের পাশাপাশি নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের কাজও চলমান রয়েছে।
কাস্টমসের নিলাম শাখা বলছে, আগামী ৯ জুন নিলামে তোলা হচ্ছে চারটি জাপানি টয়োটা এক্সিও গাড়ি। এরমধ্যে দুটি সিলভার এবং দুটি সাদা কালারের। এছাড়া একটি টয়োটা প্রভোঙ এবং একটি মিনি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরণের নিট ও ওভেন ফেব্রিঙ, হাইড্রোলিক অ্যাসিড, গৃহস্থলীর সরঞ্জাম, ফিনিশিং এজেন্ট, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, কার্টন অ্যাকসোসরিজ, টেঙটাইল কেমিক্যাল, যন্ত্রাংশ, ওয়াশিং ক্যামিকেল, পেঁয়াজ, ড্রাগন ফল, ফুটওয়্যার এবং ব্যাটারি।
জানা গেছে, গত ৩ জুন থেকে নিলামের দরপত্র ও ক্যাটালগ বিক্রি শুরু হয়। চলবে আগামী ৮ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নিলামের ক্যাটালগ ও দরপত্র সংগ্রহ করে জমা দেওয়া যাবে পরদিন ৯ জুন দুপুর ২টার মধ্যে। এরপর বেলা আড়াইটায় বিডারদের (নিলামে অংশগ্রহণকারী) উপস্থিতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগে নিলামের বঙ খোলা হবে। নিলাম উপলক্ষে বরাবরের মতোই কাস্টমসের নিলাম শাখায় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেটের যুগ্ম-কমিশনারের (সদর) দপ্তরে দরপত্র জমা দেয়ার বঙ স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেওয়ায় বন্দরে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো চার্জ পায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *