চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটে পড়েনি রমজানের ভোগ্যপণ্যের জাহাজ

0
749

বিশেষ প্রতিনিধি

এবার রমজানে ভোগ্যপণ্যবাহি জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে কোন জটে পড়তে হয়নি। বহির্নোঙরে পৌঁছার পর স্বাভাবিক অপেক্ষমান সময় পেরিয়েই জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পেরেছে। রমজানের পণ্য ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারবাহি জাহাজ নির্বিঘ্ন জেটিতে ভিড়তে পেরেছে।

অথচ গতবছর রমজানে সবচে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারবাহি জাহাজ। অবস্থা এমন হয়েছিল ইয়ার্ডে ধারনক্ষমতার অতিরিক্ত কন্টেইনার জমে থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা রেফার কন্টেইনারবাহি জাহাজকে দেরিতে জেটিতে ভিড়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এতে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল এসব জাহাজ। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। এবার রমজানের পণ্যবাহি জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে নির্বিঘ্নে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, গত বছরের লকডাউন আর চলতি লকডাউনের মধ্যে একটি বেসিক পার্থক্য আছে। গতবার বন্দর সচল থাকলেও শিল্প কারখানা বন্ধ ছিল, বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল এরপর সীমিত পরিসরে খোলা ছিল। ফলে একজন আমদানিকারক পণ্য আমদানি করলেও কারখানা খোলা না থাকায় বন্দর থেকে ছাড় নিতে পারেননি। আর বাজার খোলা না থাকায় বাণিজ্যিক পণ্য আটকে ছিল বন্দরে। এবার ব্যতিক্রম। এবার আগেভাগেই আমরা জেনেছি শিল্প কারখানা খোলা থাকবে। সুতরাং বন্দরে পণ্য আটকে থাকেনি।

তিনি বলছেন, রমজান ঘিরে আমরা আগেভাগেই ইয়ার্ড খালি রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করেছি। ফলে ইয়ার্ডে জট হয়নি। জাহাজ এসে নির্ধারিত সময়ে পণ্য নামিয়ে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে। সুষ্ট ব্যবস্থাপনা ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার মুল কারণ হচ্ছে পণ্য পরিবহন সচল রাখার নির্দেশনা। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং লাইন, শিপিং এজেন্ট, পণ্য পরিবহন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, কন্টেইনার ডিপোসহ সবগুলো বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই প্রস্তুত ছিল। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে ইয়ার্ডে আটকে থাকেনি, কন্টেইনার ডিপো থেকে পণ্য সঠিক সময়ে জাহাজীকরন হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, ‘লকডাউন’ মোকাবিলায় একটা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ছাপ ছিল এইবার। যেমন নৌ বাণিজ্য দপ্তর আগেভাগেই নির্দেশনা দিয়েছে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বন্দর ব্যবহারকারীরা এর আওতামুক্ত থাকবে। ফলে আমরা চাপমুক্ত ছিলাম।

তিনি বলছেন, কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আগে জানতে পেরে আমরা নিজেদের অফিসকে সচল রাখার প্রস্তুতি নিয়েছি। মুল কথা বন্দর ব্যবস্থাপনা হচ্ছে একটি টীম ওয়ার্ক; একটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ না করলে সফলতা আসবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here