চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারে পণ্য উঠানামা কমলো ৮ শতাংশ

0
866

বিশেষ প্রতিনিধি
কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে চলছে মহামন্দা; এর প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় পণ্য উঠানামায় ব্যাপক ধ্বস নেমেছে বিশ্বের শীর্ষ সমুদ্রবন্দরগুলোতে। চট্টগ্রাম বন্দরেও  এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কন্টেইনারে পণ্য উঠানামা কমেছে ৮ শতাংশ। কিন্তু বিশ্ব সমুদ্রবন্দরগুলোতে কন্টেইনারে পণ্য উঠানামা যে হারে কমেছে; সেই তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর একেবারেই ব্যতিক্রম।

কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামায় ধ্বস নেমেছিল ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। সারাদেশে তখন কভিড ঠেকাতে লকডাউন চলছিল। স্বাভাবিক সময়ে ২০২০ সালের প্রতিমাসে গড়ে পণ্য উঠানামা হয় আড়াই লাখের মতো কিন্তু কভিডের ধাক্কায় লকডাউনের কারণে এপ্রিল মাসে পণ্য উঠানামা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩২ হাজার একক কন্টেইনার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী সিদ্ধান্তে কভিড মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সতকর্তা মেনে শিল্প কারখানা চালুর পর মে মাস থেকেই ধীরে ধীরে অর্থনীতির গতি বাড়ছিল। বন্দরে পণ্য উঠানামার গতি বেড়ে যায়। জুন মাস থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি; সর্বশেষ ডিসেম্বর পর্যন্ত পণ্য উঠানামার ধারাবাহিক গতি অব্যাহত ছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিগত ২০১৯ সালে যেখানে বন্দরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমান ৩০ লাখ ৮৮ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা হয়েছিল; সর্বশেষ ২০২০ সালে সেই পরিমান দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার একক। পরিমানের হিসেবে কন্টেইনার উঠানামা কমেছে প্রায় আড়াই লাখ একক। আর শতাংশের হিসেবে পণ্য উঠানামা কমেছে ৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য উঠানামার বড় অংশই করে থাকে টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক, চ্যালেঞ্জিং এবং সময়োপযোগী সিদ্ধার কারণেই আমরা রপ্তানিতে বড় সুফল পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা, কঠিন সময়ে কারখানা খুলে দেয়া এবং কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আন্তরিকতাও প্রশংসা করার মতো। তখন যদি দেশের সব শিল্প কারখানা না খুলত, তাহলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকত কল্পনাই করতে পারতাম না। করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই দেশের অর্থনীতির গতি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

কভিডে বিশ্বের সমুদ্রবন্দরগুলোর মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা কমবে ধারনায় ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত পণ্য উঠানামা ৮ শতাংশ কমায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, বৈশ্বিক করোনার ধাক্কায় ২০২০ সালে কনটেইনার ওঠানামা কমবে এটা আমাদের ধারনায় ছিল। করোনার ধাক্কা তো শুধু চট্টগ্রাম বন্দরেই পড়েনি; বৈশ্বিকভাবেই পড়েছে। বিশ্বের সব বন্দরেই পণ্য ওঠানামায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। পার্শ্ববর্তী ভারতের দুটি বন্দর বিশ্বের শীর্ষ বন্দরের তালিকায় আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল কিন্তু এবার তাদের পণ্য ওঠানামা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। শুধু তাই নয়, শ্রীলঙ্কাও আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিলতাদেরও পণ্য ওঠানামা অনেক কম হয়েছে; কভিডের ধাক্কায় সেই বন্দরে এখনো চলছে। সেই তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার উঠানামা ৮ শতাংশ কমেছে। এটা খুব ব্যতিক্রম এবং সরকার প্রধানের সঠিক নেতৃত্বের সুফল। পণ্য উঠানামার সর্বশেষ গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা ধাক্কা সামলে আরো বড় অর্জন দেখাতে পারবো।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য উঠানামার বড় অংশই করে থাকে টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক, চ্যালেঞ্জিং এবং সময়োপযোগী সিদ্ধার কারণেই আমরা রপ্তানিতে বড় সুফল পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা, কঠিন সময়ে কারখানা খুলে দেয়া এবং কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আন্তরিকতাও প্রশংসা করার মতো। তখন যদি দেশের সব শিল্প কারখানা না খুলত, তাহলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকত কল্পনাই করতে পারতাম না। করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই দেশের অর্থনীতির গতি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here