চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ঈগল রেল’ স্থাপন আবারো আলোচনায়

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

4 December, 2021 17 Views

17

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর কন্টেইনার স্থানান্তর করা হয় ক্রেনের মাধ্যমে। আর বন্দরের ভিতর থেকে বন্দরের বাইরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার পরিবহন করা হয় সড়কপথে ট্রাক-লরির মাধ্যমে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তে উড়ালপথে কন্টেইনার পরিবহনের একটি উচ্চাবিলাসী উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকান কম্পানি দিয়ে স্টাডির পর চলতি বছরের শুরু থেকে এই প্রকল্প আর এগোয়নি। এরপর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চাবিলাসি এই প্রকল্প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে না আসলেও থামিয়ে দিয়েছিল কার্যক্রম।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়াতে ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে ‘ঈগল রেল’। চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগের বিষয়ে ঈগল রেলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ভিঞ্চকির সঙ্গে আজ ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামের বৈঠকে এই তথ্য প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।  রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম জানান, শিকাগো-ভিত্তিক কনটেইনার লজিস্টিক কোম্পানি ঈগল রেল চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়াতে ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। এই বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক খাতে মার্কিন এফডিআই বাড়বে।

উল্লেখ্য, ঈগল রেল হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে অনেকটা ক্যাবল কারের মতো পণ্য পরিবহন করা হবে। উড়ালপথে পিলারে থাকা রেল ট্র্যাকের ওপর এই ঈগল রেল পণ্যভর্তি বা খালি কন্টেইনার পরিবহন করা হবে। মাটি থেে অন্তত ৫০ ফুট ওপরে স্টিল স্ট্রাকচারের ট্র্যাকে কন্টেইনার স্থানান্তর করার পরিকল্পনা ছিল। মুলত যানজট এড়াতে বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল থেকে পাশে থাকা ওভারফ্লো ইয়ার্ড পর্যন্ত ঈগল রেল চালু বিষয়ে স্টাডি করা হয়েছিল। সুফল পেলে পরবর্তীতে এছহাক ব্রাদার্স ডিপো পর্যন্ত এরপর বে টার্মিনাল পর্যন্ত নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল বন্দর।

প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, আমি যতটুকু জানি প্রাথমিক একটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। সর্বশেষ আমরা মন্ত্রনালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম; যেখানে বন্দরের স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ ছিল। এখন নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে কী আলোচনা হয়েছে আমাদের জানা নেই।

জানা গেছে, এক ইয়ার্ড থেকে অন্য ইয়ার্ডে উড়ালপথে কন্টেইনার পরিবহনে নতুন প্রযুক্তির ঈগল ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এই প্রযুক্তিতে অনেকটা ক্যাবল কারের মতো ঈগল ট্রেন অন্তত ৫০ ফুট ওপরে স্টিল স্ট্রাকচারের ট্র্যাকে কন্টেইনার স্থানান্তর করে থাকেএর সক্ষমতা যাচাইয়ে স্টাডি করার জন্য ২০১৯ সালে আমেরিকান কোম্পানি ঈগল রেল কন্টেইনার লজিস্টিকস এর সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে তারা স্টাডি করে রিপোর্ট দিয়েছিল। কিন্তু সেই রিপোর্টে বন্দর কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এরপর থেকে কৌশলে বিলাসি পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম চেম্বারের বর্তমান এক পরিচালক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, বন্দরের সামনে এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আছে; যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া অতীব জরুরি। কিন্তু সেগুলো না করে ঈগল রেল, বঙ্গোপসাগরে ভাসমান টার্মিনাল নির্মান, হেলিকপ্টার কেনার মতো বিলাসি অর্থ অপচয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। এগুলো মুলত কিছু নির্ধারিত গোষ্টিকে কাজ দিয়ে বন্দরের তহবিল তছরূপ করার প্রকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *