চট্টগ্রাম বন্দরের ৯০ শতাংশ ইয়ার্ডেই জমে আছে কন্টেইনার

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর ইয়ার্ডে ধারনক্ষমতার ৯০ শতাংশ কন্টেইনার জমে গেছে। জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর তুলনায় বন্দর থেকে পণ্যছাড়ের হার কমে যাওয়ায় এই জটিল পরিস্থিতির তৈরী হয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডগুলো প্রায় ভর্তি হয়ে যাওয়ায় জেটিতে থাকা জাহাজ থেকে স্বাভাবিক গতিতে কন্টেইনার নামানো যাচ্ছে না। এতে করে বহির্নোঙরে অপেক্ষমান কন্টেইনার জাহাজের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।
মুলত ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণেই বন্দরের ভিতর এই কন্টেইনারজট এবং সাগরে জাহাজজট তৈরী হয়েছে। কন্টেইনার ডেলিভারি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে জট আরো বাড়বে বলে শঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষের।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ঈদুল ফিতরে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম মাত্র আট ঘন্টা বা এক শিফট বন্ধ ছিল। এর আগে-পরে পুরোদমে সচল ছিল দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর। কিন্তু আমরা ২৪/৭ সচল থাকলে তো হবে না। সমানতালে বন্দর ব্যবহারকারীদের সচল থাকতে হবে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় জট লেগেছে।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ডেলিভারির জন্য বন্দর ব্যবহারকারীদের তাগাদা দিতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুক একটা উন্নতি হয়নি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার একক। বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম সচল রাখতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। কিন্তু গতকাল ১০ মে পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে কন্টেইনার ছিল ৪৪ হাজার একক কন্টেইনার। সে হিসেবে ৯০ শতাংশ ইয়ার্ড জুড়েই কন্টেইনার জমে গেছে।

মুলত বন্দর থেকে ঈদের ছুটিতে কন্টেইনার ছাড়ের পরিমান একেবারে কমে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, গত ২৯ এপ্রিল বন্দরে কন্টেইনার ডেলিভারি হয় ৫ হাজার ১৫৬ একক। এ দিন ইয়ার্ডে কন্টেইনার ছিলো ৩৫ হাজার ৯৯৩ একক। এরপর থেকে ক্রমশ কমতে থাকে পণছাড়ের পরিমান। এরপরদিন ৩০ এপ্রিল পণ্যছাড় হয় ৩ হাজার ৩০৫ একক।

এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ১ মে ২ হাজার ৯৭২ একক, ২ মে ১ হাজার ৬৮ একক, ৩ মে ২২৭ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। ৪ মে কোন কন্টেইনার ডেলিভারি হয়নি। ৫ মে ৭০৫ একক, ৬ মে ১ হাজার ৯২ একক, ৭ মে ১ হাজার ৫১২ একক কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। ৮ মে পণ্যছাড় হয়েছে ২৫৯১ একক. ৯ মে হয়েছে ২৭শ ৮১ একক। ১০ মে হয়েছে ৪ হাজার ৬০২ একক। গতকাল ১০ মে পর্যন্ত ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৪৯ একক।
দ্রুত পণ্য ছাড় না নেয়ার জন্য প্রধানত দায়ী বিজিএমইএ। সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, কারখানা খুললেই আমাদের আমদানি করা কাঁচামাল লাগবে। তখন আমাদের প্রয়োজনেই দ্রুত পণ্য বন্দর থেকে ছাড় নিয়ে কারখানায় নিতে হবে। কারখানা সচল না থাকলে পণ্য বন্দর থেকে গুদামে কেন নিবো। আশা করছি, এই সপ্তাহেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.