চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগের গাড়িতে ধরা পড়লো ১৩৫ লিটার বিদেশি মদ-বিয়ার

আটক দুই গাড়ি চালক

0
1087

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের ‌‌’পাইলট পরিবহনে নিয়োজিত’ একটি প্রাইভেট কার থেকে ধরা পড়লো বিদেশি মদ-বিয়ার। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর থেকে প্রাইভেট কারে অবৈধভাবে এসব মদ বের করে হস্তান্তরের সময় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস চত্বরে হাতেনাতে ধরে ফেলে উপস্থিত আনসার সদস্যরা। গত সোমবার রাত ১০টায় বিদেশি ব্রান্ডের মদ ও বিয়ারসহ দুই গাড়ি চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা।

আটক মদের মধ্যে রয়েছে, ২০৯টি হেনিক্যান বিয়ার, ২৪টি স্কস হুইস্কি, ৭টি বেলেনটাইনস স্কস হুইস্কি। সব মিলিয়ে ১৩৫ লিটার মদ-বিয়ার উদ্ধার করা হয়। ৪শ শতাংশ শুল্কসহ এগুলোর বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকার মতো। আর আটক প্রাইভেট কারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্রো গ-১২-৮১০৪ সেটি চালক ছিলেন মন্টু চন্দ্র দাশ। এবং সিএনজি টেক্সির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চট্টমেট্রো থ-১২-৪১১২ সেটির চালক মোঃ মাসুদ রানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগের পাইলট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল এই গাড়ি। গাড়িটি বন্দরের নিজস্ব কোন গাড়ি নয়, চালক নিজস্ব নয়। মুলত সুনীল বাবু নামের এক গাড়ির ঠিকাদারের কাছ থেকে এই গাড়ি সরবরাহ নিয়েছে বন্দরের মেরিন বিভাগ। সেই কারনে গাড়িতে ‘পাইলট পরিবহনে নিয়োজিত’ স্টিকার লাগানো ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলছেন, আমি বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখেছি গাড়িটি বন্দরের নিজস্ব নয়, চালকও নিজস্ব নয়। ফলে সেটি নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলছেন, আট ঘন্টার জন্য আমরা গাড়ি ভাড়া করি, এরপর সে কী করছে তার দায়িত্ব তো বন্দরের নয়। তবে সেই গাড়ি যদি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বের হয়ে থাকে সেজন্য পরিচালক নিরাপত্তা বিভাগ যাচাই করে পদক্ষেপ নিবে। আর বেসরকারী গাড়ি হওয়ায় আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনী সহায়তা করবো।

ধারনা করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পাইলট পরিবহনে নিয়োজিত’ লোগোযুক্ত একটি প্রাইভেট কারের মাধ্যমে বের করে আনা হয়। এরপর সেগুলো চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের চত্বরে নিয়ে গিয়ে একটি সিএনজি টেক্সিতে হস্তান্তর করা হচ্ছিল। বিদেশি ব্রান্ডের মদ বাণিজ্যিকভাবে আমদানি নিষিদ্ধ; কেবল শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে আমদানির অনুমতি রয়েছে। আর আটক মদগুলো সবই অবৈধ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ কমিশনার একেএম সুলতান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ইমারজেন্সি পাইলট ডিউটি’ লেখা একটি প্রাইভেট কার থেকে একটি সিএনজি টেক্সিতে গোপনে হস্তান্তর করা হচ্ছিল। কাস্টম হাউস চত্বরে হস্তান্তরের সময় নজর পড়ে কাস্টমসের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের। বিষয়টি জানতে গেলে গাড়ি ফেলে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে কার চালক এবং সিএনজি চালক। আনসার সদস্যরা তাৎক্ষনিকভাবে কাস্টমসের প্রবেশ গেইট বন্ধ করে দিলে, দুই চালকই হাতেনাতে ধরা পড়ে।
তিনি বলছেন, আটক দুই চালককে গাড়ি এবং মদ-বিয়ারসহ বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়। একইসাথে কাস্টমস বাদি হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে এত নিরাপত্তাবেষ্টনী পাড়ি দিয়ে ও তল্লাশি এড়িয়ে এবং পাইলট পরিবহনের গাড়িতে কিভাবে এই মদ অবৈধভাবে বের হয়ে আসলো তা নিয়ে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকদিন ধরেই এই অপকর্ম চলে আসছিল; এই চালানটি ধরা পড়লো কাকতালীয়ভাবে।জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম বলেন, ‘গাড়ি এবং চালক দুজনেই ভাড়ায় বন্দরের মেরিন বিভাগের গাড়ি চালাতো। গতকাল পাইলট ডিউটি ছিল সকালে কিন্তু রাত ১০টার সময় তো পাইলট ডিউটি ছিল না। তাহলে অসৎ উদ্দেশ্যেই সে এই অপকর্মটি করেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করছি; তার বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here